• ‘ডিজিটাল’ ফুটপ্রিন্টেই চিহ্নিত অপরাধী? চন্দ্রনাথ হত্যায় ভিনরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার ৩, আটক কুখ্যাত গ্যাংস্টারের সঙ্গী
    এই সময় | ১১ মে ২০২৬
  • মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যা মামলায় ভিন রাজ্য থেকে গ্রেপ্তার তিন অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন অভিযুক্তকে। তাদের একজন বক্সারের বাসিন্দা, বাকি দু'জন উত্তরপ্রদেশের। তারা শার্প শুটার বলে অভিযোগ। এ ছাড়া মায়াঙ্ক মিশ্রা ও ভিকি মৌর্য নামে আরও দুই অভিযুক্তকে বক্সার থেকে আটক করেছে পুলিশ। এদের ইতিমধ্যেই আনা হয়েছে কলকাতায়।

    চন্দ্রনাথ রথকে গত ৬ মে, ২০২৬-এর রাতে মধ্যমগ্রামে নৃশংস ভাবে গুলি করে খুন করা হয়। এর পরেই তদন্তে নামে পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)। প্রাথমিক তদন্তেই ভিন রাজ্যের যোগ উঠে এসেছিল এই তদন্তে। দুষ্কৃতীরা যে বাইরের রাজ্য থেকেই এসেছিল, সেই বিষয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতেই দু'টি টিমকে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে পাঠানো হয়। সেই টিমের হাতেই উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার তিন সন্দেহভাজন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক অভিযুক্তের নাম বিশাল শ্রীবাস্তব। তিনি বক্সার পান্ডিয়াপাট্টির বাসিন্দা।

    তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে মূল শার্প শুটার ছিল রাজ সিং। উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার বাসিন্দা রাজ ঘটনার পরে অযোধ্যা পালিয়ে যায়। তার আসল বাড়ি বিহারের বক্সায়। সেখানকার এক ক্রিমিনাল বিশালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রাজের নাম পান তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই রাজকে গ্রেপ্তার করতে অযোধ্যায় যান তদন্তকারীরা। অযোধ্যা পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয় রাজকে। অন্যদিকে, বক্সা থেকে পুলিশের হাতে আটক কুখ্যাত ডন তথা সুপারি কিলার চন্দন মিশ্রা গ্যাং মেম্বার মায়াঙ্ক মিশ্রা। এদের জেরার মাধ্যমে চন্দ্র হত্যার রহস্যের আরও জট খুলবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।

    পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুষ্কৃতী দলে কমপক্ষে আট জন ছিল। রেইকি করার পরে চন্দ্রনাথকে হত্যার প্ল্যান কষেছিল আততায়ীরা। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রাম চৌমাথার কাছে দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকায় একটি গাড়ি। ওই গাড়ির পাশেই দাঁড়ায় একটি মোটরবাইক। আততায়ীরা দুই দিক থেকে ঘিরে ধরে মধ্যমগ্রামের ব্যস্ত রাস্তায় এক মিনিটেরও কম সময়ে চন্দ্রকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয়। অপারেশন শেষ করে একটি লাল গাড়ি এবং একটি বাইকে চেপে পালিয়ে যায় শুটাররা। নিজেদের পরিচয় গোপন করতে নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল আততায়ীরা। তাদের সূত্র পেতে ‘ডিজিটাল’ ফুটপ্রিন্টের হাত ধরে তদন্ত শুরু করেন তদন্তকারীরা।

    পুলিশ সূত্রে খবর, অপারেশনের আগে খুনে ব্যবহৃত সেই নিসান মাইক্রা গাড়িটি বালি টোলপ্লাজ়া অতিক্রম করেছিল। সেই সময় টোলের টাকা মেটাতে নগদ নয়, বরং ইউপিআই ব্যবহার করেছিল গাড়িতে থাকা এক অভিযুক্ত।এই ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই অভিযুক্তের পরিচয় ও মোবাইল নম্বর হাতে আসে পুলিশের। সেই সূত্র থেকে ভিনরাজ্যে তদন্তকারী দলের হাতে ধরা পড়ে সন্দেহভাজনরা। বালি টোলপ্লাজ়ার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে মেলা গাড়ি ও আরোহীদের ছবির সঙ্গেও অভিযুক্তদের চেহারা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কার না কাদের নির্দেশে অভিযুক্তরা চন্দ্রনাথকে হত্যা করেছে তা জানতে চলছে তদন্ত।

  • Link to this news (এই সময়)