• প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের
    আজকাল | ১১ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার সকালে সুভাষ সরোবরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে একবারে মেজাজি মেজাজে ধরা দিলেন নবনিযুক্ত রাজ্য ক্যাবিনেট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রাতঃভ্রমণ সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতি এবং নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা— একাধিক বিষয়ে সপাটে নিজের মতামত জানান তিনি। বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধের আবহে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বের তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। মোদিজি প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তেলের জোগান ঠিক রেখেছেন, এমনকি এই সংকটেও ভারত বাংলাদেশকে তেল দিয়ে সাহায্য করেছে। তবে পরিস্থিতি বিচার করে আমাদেরও গ্যাস বা তেলের মতো সীমিত সম্পদের ব্যবহারে সংযত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    রাজ্যের নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানান, এতদিন যে সমস্ত কেন্দ্রীয় যোজনা বাংলায় চালু করতে দেওয়া হয়নি, আমাদের সরকার এবার সেই সমস্ত যোজনা দ্রুত কার্যকর করার অনুমতি দেবে। বাংলার মানুষকে আর কেন্দ্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ক্যাবিনেটে দপ্তর বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে, যা মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্থির করবেন।

    এদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথাও শোনেন তিনি। সুভাষ সরোবর চত্বরের উদাহরণ টেনে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, অতীতে এখানে কয়েক কোটি টাকা খরচ হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শৌচালয় থেকে পানীয় জলের সমস্যা— সবই রয়ে গিয়েছে। এমনকি এক সময় রাজনৈতিক কারণে এখানকার বসার জায়গাগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এখন থেকে সাধারণ মানুষ এই অরাজকতা থেকে মুক্তি পাবেন এবং রাজ্যে বোমা-বন্দুকবাজির সংস্কৃতি বন্ধ হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

    চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উত্তরপ্রদেশ থেকে তিন শার্প শ্যুটার গ্রেফতার হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শার্প শ্যুটার দিয়ে খুনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। সরকারের লক্ষ্য মানুষকে নিশ্চিন্তে বসবাসের পরিবেশ দেওয়া। পাশাপাশি ২০১৬ সালের ওএমআর শিট প্রকাশের বিষয়ে তিনি জানান, বিজেপি যেটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার সেই পথেই হাঁটবে।

    বিগত সরকারের আমলের ‘তোলাবাজি’ এবং ‘গুন্ডারাজ’ নিয়ে সরব হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্যে পালাবদলের সাথে সাথেই বালি পাচার থেকে শুরু করে রাস্তায় লরি আটকে ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ নেওয়া বন্ধ হয়েছে। ভিন রাজ্য থেকে আসা ট্রাকচালকদের যে হয়রানির শিকার হতে হতো, তা এখন অতীত। অশ্বিনী বৈষ্ণবের বাংলায় ‘টেকনোলজি হাব’ তৈরির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বহু শিল্পপতি বাংলার বাইরে অপেক্ষা করছেন এখানে বিনিয়োগের জন্য। সুশাসন ফিরলে বাংলা আবার শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে। আমলাদের রদবদল প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, কাজের পারফরম্যান্স দেখেই সব ঠিক হবে। যারা নতুন বাংলা গড়ার কাজে সামিল হতে চান, তারা নিশ্চয়ই যোগ্য সম্মান পাবেন। সব মিলিয়ে এদিন দিলীপ ঘোষের কথায় ছিল এক নতুন ও পরিচ্ছন্ন বাংলা গড়ার আত্মবিশ্বাস।
  • Link to this news (আজকাল)