• TMC-র অত্যাচারের পর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ১০ বছর পর ভাত মুখে তুললেন কোচবিহারের সুভাষ
    আজ তক | ১১ মে ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গ যে রাজনীতির আতুঁরঘর, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা নেই। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী বহুকাল আগে থেকেই বাংলায় রাজনৈতিক মতের উন্মেষ ঘটেছিল। সেই কারণেই বাংলায় রাজনীতি নিয়ে এত আলোচনা, এত কর্মকাণ্ড। আর সেই তালিকায় নয়া নজির করলেন কোচবিহারের বাসিন্দা সুভাষ বর্মন। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিবাদের নয়া ইতিহাস লিখলেন তিনি।

    বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রায় এক দশক বাদে প্রথমবার ভাত মুখে তুললেন শীতলকুচি ব্লকের বিজেপি কর্মী সুভাষ বর্মন। ঘটনা ঘিরে এলাকায় রীতিমতো আবেগঘন উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতেই ১০ বছর পর ভাত মুখে দিলেন ওই বিজেপি কর্মী।

    কেন এতদিন ভাত খাননি? কী প্রতিজ্ঞা ছিল?

    স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শীতলকুচির ভাবৈরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের আওয়ালি কুড়া বুথের বাসিন্দা সুভাষ বর্মন ২০১৬ সালের কোচবিহার লোকসভা উপনির্বাচনের সময় বিজেপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন।  অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের পর তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি রান্না করা ভাত ফেলে দেওয়া হয়, এমনকি রান্নার হাঁড়িও উল্টে দেওয়া হয়েছিল।

    এই ঘটনায় বিরাট ক্ষোভের জন্ম হয় সুভাষ বর্মনের মধ্যে। রান্না করা ধবধবে সাদা ভাত ও ভাতের হাঁড়ি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেই  তিনি 'ভীষ্ম প্রতিজ্ঞা' করেন।  সুভাষ বর্মন শপথ নিয়ে নেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না।

    এরপর কেটে গিয়েছে ১০ বছর। ২০২১-এ উত্তরবঙ্গে বিজেপি ভালো ফল করলেও ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ফলে প্রতিজ্ঞায় অটল ছিলেন সুভাষ বর্মন। অবশেষে ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় পদ্ম ফুটতেই প্রতিজ্ঞা ভাঙলেন ওই বিজেপি কর্মী।

    রবিবার আত্মীয়, প্রতিবেশী ও দলীয় কর্মীদের উপস্থিতিতে ১০ বছর পর ভাত খেলেন তিনি। ২০১৬ সালের ঘটনার স্মৃতি হিসেবে ভাঙা হাঁড়িগুলিও এখনও রেখে দিয়েছেন সুভাষ। র বাড়ির কিছু অংশ এখনও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থাতেই রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    সুভাষ বর্মন রবিবার জানান, "সেই দিনের অপমান আমি কোনওদিন ভুলতে পারিনি। মনে হচ্ছে, আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তাই আবার সবার সঙ্গে বসে খাওয়ার সময় এসেছে।"

     
  • Link to this news (আজ তক)