এখনও অধরা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকারীরা। এই মামলায় এবার রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বিহারে পৌঁছল তদন্তকারী দল। জানা গিয়েছে, চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় গঠিত SIT বিহারের বক্সার এলাকায় তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে আটক করা হয়েছে পোন্ডেয়পট্টি এলাকার বাসিন্দা কুখ্যাত অপরাধী বিশাল শ্রীবাস্তবকে। ইতিমধ্যেই তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতা নিয়ে আসা হচ্ছে।
এই বিশাল শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে হত্যা, আর্মস অ্যাক্ট সহ একাধিক মামলা রয়েছে।
তদন্ত যত এগোচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক হত্যা মামলায় একের পর এক তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। পুলিশ সূত্রে খবর, CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অপারেশনের আগে একটি নিসান মাইক্রা গাড়ি বালি টোলপ্লাজা পার করেছিল। সেই টোলপ্লাজায় UPI মারফত পেমেন্ট করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই UPI ট্রানজাকশনের সূত্র ধরেই এখন অভিযুক্তদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে পেমেন্ট করা হয়েছিল, সেই অ্যাকাউন্টের মালিক কি শুধুই চালক, নাকি গোটা অপারেশনের মূল চক্রী, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, চন্দ্রনাথ রথকে খুনের আগে তাঁদের গাড়ির পথ আটকায় ওই নিসান মাইক্রা গাড়ি। রাস্তা আটকে দেওয়া নিয়ে দুই গাড়ির চালক ও আরোহীদের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হামলার ঘটনা ঘটে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে দোহরিয়া এলাকায় তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাঁর বুকে ২টি গুলি লেগেছিল। সেগুলি হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয়। আর অপর গুলিটি তাঁর পেটের কাছে লাগে। মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।