কাঠফাটা রোদ, প্যাচপ্যাচে ঘাম। কার্যত গরমের দাবদহে এতক্ষণে নাজেহাল অবস্থা হয়। তবে এবছর মে মাসের শুরুটা ছিল ব্যতিক্রমী। এখনও পর্যন্ত চৈত্র-বৈশাখে নিজের তেজ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে সূয্যিমামা, বরং আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা। বয়েছে ফুরফুরে হাওয়া। গত সপ্তাহে কালবৈশাখীর দাপটে লাগাতার বেশ কয়েকদিন ধরে চলেছে ঝড়-বৃষ্টি। এ সপ্তাহে কেমন থাকবে আবহাওয়া, জানাল হাওয়া অফিস।
বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরির কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যার জেরে গোটা সপ্তাহজুড়েই একাধিক জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে বলেই জানা গিয়েছে। সোমবার দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরও চলবে ঝড়বৃষ্টি। ওই জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতাতেও সোমবার দিনভর দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াও খানিকটা একইরকম। সোমবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে প্রবল ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। বুধবার থেকে টানা তিন দিন বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ঝড়ের সম্ভাবনা বিক্ষিপ্তভাবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে।
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়, ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এর সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে ক্রমাগত বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প ঢুকছে বাংলায়। সব মিলিয়ে ঝড়বৃষ্টি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৬ ডিগ্রি। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৪ ডিগ্রি।