• যাদবপুরে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর জট কাটল না, কী বলছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট?
    প্রতিদিন | ১১ মে ২০২৬
  • খুন বা আত্মহত‌্যা নয়। দুর্ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে এখনও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের জন‌্য অপেক্ষা লালবাজারের গোয়েন্দাদের।

    গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ‌্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান চলার সময়ই জলে ডুবে মৃত্যু হয় ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের। তাঁর দেহ বিশ্ববিদ‌্যালয়ের চার নম্বর গেটের কাছে ঝিলে ভাসতে দেখা যায়। অনামিকার অভিভাবকরা যাদবপুর থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। এর তদন্ত শুরু করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। তদন্ত শুরুর পর লালবাজারের গোয়েন্দারা প্রশ্ন তোলেন, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অনামিকা মণ্ডলকে কি কেউ খুন করেছে? না কি আত্মঘাতী হয়েছেন অনামিকা অথবা দুর্ঘটনার কারণেই যাদবপুর বিশ্ববিদ‌্যালয়ের জলাশয়ে পড়ে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর? এর উত্তর পেতে গোয়েন্দারা মূলত অপেক্ষা করে ছিলেন ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিকের রিপোর্টের উপর।

    অনামিকার মৃত্যুর দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ‌্যালয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। এর কাছেই রয়েছে জলাশয়। তার পাশেই টয়লেট। অনামিকাকে টয়লেটে যেতে দেখা গিয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরই অনামিকার দেহ জলাশয়ে ভাসতে দেখা যায়। ওই ছাত্রীর হাতে কিছু ক্ষত চিহ্নও ছিল। অন‌্যান‌্য ছাত্র-ছাত্রী, অধ‌্যাপক, নিরাপত্তারক্ষীরা অনামিকাকে উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তদন্ত শুরুর পর ঘটনাস্থল তথা ঝিল বা জলাশয়টি ও তার আশপাশের প্রত্যেকটি সিসিটিভির ফুটেজ একাধিকবার পরীক্ষা করে। অন্তত ৫০ জনকে লালবাজারে ডেকে জেরা করা হয়েছিল। উল্লেখযোগ‌্যভাবে একাধিকবার তলব করে জেরা করা হয় অনামিকার প্রাক্তন প্রেমিককেও। সম্প্রতি ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এসেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে।

    লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, দু’টি রিপোর্টই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দুর্ঘটনাবশতই মৃত্যু হয়েছে ওই ছাত্রীর। দুর্ঘটনার সময় কোনও কিছু আঁকড়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। যার ফলে তাঁর হাতে আঘাত লাগে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান। তাঁর ক্ষতচিহ্নগুলি সেই কারণে হতে পারে, এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিকের রিপোর্টে সেরকমই ইঙ্গিত রয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও চূড়ান্ত রিপোর্টে ওই ছাত্রীর মৃত্যু ও হাতে ছড়ে যাওয়া এবং আঘাতের চিহ্ন নিয়ে আরও কিছু তথ‌্য গোয়েন্দা পুলিশ চিকিৎসকদের কাছে জানতে চেয়েছে। ময়নাতদন্তের চিকিৎসকের সেই রিপোর্টের জন‌্য অপেক্ষাও করছেন গোয়েন্দারা। ময়নাতদন্তের চিকিৎসক সেই উত্তরগুলি লালবাজারে পাঠালে যাদবপুর বিশ্ববিদ‌্যালয়ে ছাত্রীর মৃত্যুতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)