জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে প্রথম বার দলের সরকার গঠন করে স্বপ্নপূরণ হয়েছে বিজেপি-র। ব্রিগেড ময়দানে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল-সহ পাঁচ জনকে সমাজমাধ্যমে অভিনন্দনও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে এরই মধ্যে দিলীপ, অগ্নিমিত্রা-সহ কয়েক জনের সঙ্গে মোদীর একান্ত কথোপকথনও হয়েছে। মোদী কী বার্তা দিলেন দিলীপ ও অগ্নিমিত্রাকে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে বিজেপির অন্দরে। দুই মন্ত্রীই রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নেতৃত্বে এক জোট হয়ে কাজ করার কথা বলেছেন।
সূত্রের খবর, ওই দুই মন্ত্রীকে মোদী বলেছেন, ‘আপনাদের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলা’। শুভেন্দুর পরেই মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ সঙ্ঘ-পরিবারের একনিষ্ঠ সদস্য থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েছিলেন। নিজে বিধায়ক, সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁর আমলেই পশ্চিমবঙ্গে প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল বিজেপি।
তবে দলের অভ্যন্তরীণ ‘সমীকরণে’ দিলীপ একদা দলেই প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছিলেন। এখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপে তিনি মূল স্রোতে ফিরেছেন, মন্ত্রীও হয়েছেন। সূত্রের খবর, শপথের মঞ্চে দিলীপকে মোদী বলেছেন, ‘দারুণ কাজ করেছেন। আগামী দিন আরও ভাল কাজ করতে হবে।’ পাল্টা দিলীপ বলেছেন, ‘এই জয়ে আপনার অবদান সব চেয়ে বেশি।’ হেসে ধন্যবাদ জানান মোদী।
মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়ের আয়োজনে এ দিন মাছ-ভাত উৎসবে হাজির হয়েছিলেন দিলীপ। তার আগে ইকো পার্কে প্রাতর্ভ্রমণের মাঝে দিলীপ বলেছেন, “শুভেন্দুবাবু আমাদের ক্যাপ্টেন। যাঁকে যে দায়িত্ব দেবেন, সবাই সেই মতো কাজ করবেন। আগে বাংলাকে পুরনো জায়গায় ফেরাতে হবে। তার পরে বাংলাকে ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো জায়গায় নিয়ে যাব।”
পাশাপাশি, রঙিন দুনিয়া থেকে এসে রাজনীতির ধুলো-বালি মেখে অগ্নিমিত্রা মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী, দলের সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতির মতো নানা সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। দু’দফায় বিধায়কও হয়েছেন। সূত্রের খবর, শপথের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ককে বলেছেন, ‘খুব ভাল লড়েছেন। এ বার দায়িত্ব বাড়ল। মানুষের কাজে আরও সময় দিতে হবে’। অগ্নিমিত্রা তাঁর উপরে ভরসা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মোদীকে। সূত্রের খবর, দু’জনকেই মোদী বলেছেন, বাংলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। কালীঘাট মন্দিরে এ দিন পুজো দিতে গিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। সেখানেই তিনি বলেছেন, “শান্তি আসুক। সবাই ভয় ছাড়া, ভরসা নিয়ে বাঁচুন। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো কাজ করব। সেবা করতে এসেছি। শাসন নয়!”