কোভিড সঙ্কটের সময়ের জীবনযাপনের ধারা আবারও ফিরতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি ভাণ্ডার নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সঙ্কট মোকাবিলায় রবিবার বেঙ্গালুরুতে এই নিয়ে সতর্ক করে দেশবাসীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর মতো একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপের আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পরেই সরব হন বিরোধীরা। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, সরকার কি সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপিয়ে দিয়ে আরও গভীর অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে? এখানেই শেষ নয়, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনকে ব্যর্থতার প্রমাণ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়াতে, সোনার গয়না না কিনতে, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কারপুলিং ও গণপরিবহণ ব্যবহার বাড়াতে এবং সম্ভব হলে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতি চালু করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ভারতের উপরও পড়তে পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের পরই আক্রমণ শানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স-এ লেখেন,‘মোদীজি গতকাল জনগণের কাছে ত্যাগের দাবি করেছেন - সোনা কিনবেন না, বিদেশে যাবেন না, কম পেট্রল ব্যবহার করুন, সার ও ভোজ্যে তেলের ব্যবহার কমান, মেট্রোতে যাতায়াত করুন, বাড়ি থেকে কাজ করুন। এগুলো নিছক উপদেশ নয়, বরং ব্যর্থতার প্রমাণ।’
রাহুলের দাবি, যদি দেশের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে মানুষকে সোনা কেনা বন্ধ করতে, বিদেশযাত্রা এড়াতে বা বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়, তবে তা সরকারের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতির দুর্বলতাকেই সামনে আনে। তাঁর কথায়, ‘দেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে এখন সাধারণ মানুষকেই বোঝা বইতে বলা হচ্ছে।’ এখানেই শেষ নয়, রাহুলের কটাক্ষ, ‘এটাই একজন কম্প্রোমাইজড প্রধানমন্ত্রীর বাস্তব চিত্র।’ একইসঙ্গে কংগ্রেসের অভিযোগ, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত সরকার স্পষ্ট ও কার্যকর কূটনৈতিক অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রশ্নে কেন্দ্রের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মূলত জ্বালানি সংরক্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমানোর বার্তা ছিল। তিনি বলেন, ‘করোনা অতিমারির সময় যেমন অনলাইন মিটিং, বাড়ি থেকে কাজ এবং সীমিত ভ্রমণের অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, তেমন কিছু অভ্যাস ফের চালু করলে দেশের উপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো সম্ভব হবে।’ একই সঙ্গে সোনা কেনা কমানোর আর্জিও জানান, কারণ বড় পরিমাণে সোনা আমদানির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ বাড়ে।
কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপালের গলাতেও একই সুর। তিনি দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে মোদী ‘সম্পূর্ণ দিশেহারা’ ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকমাসের বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকার ভারতের জ্বালানি স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বরমও। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন ‘গুরুতর নির্দেশ’ জারির কারণ কী এবং অবিলম্বে সংসদ আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন,‘এর পিছনের কারণ কী? সরকারকে অবশ্যই দেশবাসীকে প্রকৃত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে হবে।’ তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাকেত গোখলেও প্রশ্ন তুলেছেন যে, ভারত বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্কট বা লেনদেন ভারসাম্যের সঙ্কটের মুখোমুখি হচ্ছে কি না, তা অবিলম্বে জানাতে হবে।