আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচালিত বেলডাঙা- ২ পঞ্চায়েত সমিতিতে ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পের কাজে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে।
এমনই অভিযোগ তুললেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সোমবার সকালে পঞ্চায়েত সমিতির অফিস খুলতেই সেখানকার তিন গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ঘরে তালা লাগিয়ে দেন রেজিনগরের জয়ী প্রার্থী।
সোমবার সকালে হুমায়ুন কবীর পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে গিয়েছিলেন। প্রথমেই নিজের ছেলে তথা বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গোলাম নবি আজাদ রবিনের ঘরে তালা লাগান।
এরপর হুমায়ুন কবীর একে একে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিউটি বেগম এবং সহ-সভাপতি শক্তিপদ কর্মকারের ঘরেও তালা লাগিয়ে দেন। সেই তালার চাবি বিডিওর হাতে তুলে দেন তিনি।
হুমায়ুনের ‘নির্দেশ’ গোটা ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটা ঘরেরও তালা খোলা যাবে না। এদিন সকালে এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে বেলডাঙা-২ ব্লক অফিস চত্বর।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিউটি খাতুনের স্ত্রী আতাউর রহমান হুমায়ুন কবীরের কাছে পরাজিত হন। হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পে বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতি প্রায় ২৮.৫ কোটি টাকা লুঠ করেছে। এই দুর্নীতির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং কর্মাধ্যক্ষরা তাঁদের নিজেদের ঘরে ঢুকতে পারবে না। আমার ছেলে এই পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছে। যদি সে কোনও দুর্নীতি করে থাকে তাহলে তাঁকেও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। তবে আমি নিশ্চিত আমার ছেলে কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। আমার ছেলেকে পঞ্চায়েত সমিতির দৈনন্দিন কাজ সম্পর্কে কিছুই জানানো হত না।’
উল্লেখ্য, নওদা ও রেজিনগর কেন্দ্র থেকে জয়ের পর হুমায়ুন ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি রেজিনগর আসন থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করবেন এবং তাঁর ছেড়ে যাওয়া ওই আসনে লড়বেন গোলাম নবি আজাদ।
সোমবার হুমায়ুন বলেন, ‘বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রায় ২৮০টি বুথ রয়েছে। ভোটের আগে ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পের নামে প্রত্যেকটি বুথে ১০ লক্ষ করে প্রায় ২৮.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু ওই প্রকল্পে কাজের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ উন্নয়নের কোনও সুবিধা পাননি।’
হুমায়ুনের অভিযোগ, ‘সরকারি প্রকল্পে কাজের বরাত দেওয়ার জন্য সমস্ত কন্ট্রাক্টরের কাছ থেকে গড়ে ১৮ শতাংশ করে টাকা ‘কাটমানি’ নেওয়া হয়েছে। এখানকার বিএলআরও-কে ব্যবহার করে ভোটের ঠিক আগে প্রায় ২০০ জন গরীব মানুষকে জমির পাট্টা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকেও ২-৫ লক্ষ টাকা করে হাতিয়েছে পঞ্চায়েতের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং কিছু সদস্য।’
অন্যদিকে, আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার পাড়া আমার সমাধান প্রকল্পের কাজে কোনও রকম আর্থিক দুর্নীতি হয়নি। সমস্ত কাজ বিডিও সাহেবের নজরদারিতে এবং অন্যান্য আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েত সমিতির কাজের টেন্ডার এবং কাজের অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সভাপতির কোনও ভূমিকা থাকে না। গোটা বিষয়টি পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের নজরদারিতে হয়ে থাকে। বর্তমানে বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে হুমায়ুন কবীরের ছেলেই আসীন রয়েছেন। দুর্নীতি যদি কিছু হয়ে থাকলে হুমায়ুন কবীর নিজের ছেলের কাছেই তার জবাব চাইতে পারেন।’
আতাউরের তোলা অভিযোগের উত্তরে গোলাম নবি আজাদ বলেন, ‘পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির চেয়ারে না বসলেও আতাউর রহমানই এখানে শেষ কথা বলতেন, তা সকলেই জানে। তিনি নিজের এক আত্মীয় এবং যুব তৃণমূলের এক নেতার হাত দিয়ে কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে ‘কাটমানি’ তুলতেন। আতাউরের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি কাটার অভিযোগ ভূমি দপ্তরের কাছে জমা পড়েছে। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের চেয়ারে বসে আমি কোনও দুর্নীতি করিনি। আমার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কেউ কোনও অভিযোগ জানায়নি।’