আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ছবি সরিয়ে সেখানে ভারতমাতা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি লাগানো শুরু হল বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার বীরভূমের সিউড়িতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য।
বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে এদিন সিউড়ি ১ ও ২ নম্বর ব্লক, সিউড়ি পুরসভা এবং জেলা পরিষদের একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরে পৌঁছে যান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি কক্ষে লাগানো পুরনো ছবি সরিয়ে নতুন করে ভারতমাতা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি টাঙাতে দেখা যায় বিজেপি নেতৃত্বকে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্লক অফিস, পুরসভা ও প্রশাসনিক ভবনগুলিতে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ছবি রাখা হত। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই সময় প্রশাসনিক ভবনগুলিতে শাসক দলের প্রভাব স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ত। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবধানে জয়লাভ করে রাজ্যের ক্ষমতায় আসে ভারতীয় জনতা পার্টি। এরপরই বদলে যায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে জেলা স্তরে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা দেশের প্রতিনিধি, তাই সরকারি দপ্তরে তাঁর ছবি থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়।
এদিন সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে বিজেপি কর্মীরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ছবি সরিয়ে সেখানে ভারতমাতা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি টাঙান। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবিও সেখানে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং নতুন সরকারের প্রশাসনিক পরিচয়ের অংশ।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। যদিও পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জল, রাস্তা, আলো ও নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত বীরভূমের রাজনৈতিক মহল। প্রশাসনিক দপ্তরে ছবি বদলের এই কর্মসূচি আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ে কিনা, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
এ প্রসঙ্গে সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'বিজেপি পার্টির তরফ থেকে ভারতমাতার একটা ছবি আমাদের সিউড়ি পুরসভার চেম্বারে লাগানো হল। আর মাননীয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটা ছবি এখানে লাগানো হল। এটা বিজেপির তরফ থেকে যদি আমাকে আগে থেকে জানানো হত, আমি একটু দেরিতে আজকে অফিসে এসেছি, আগে আসতাম। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।' পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন তিনি।
বিজেপি বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক শ্যামসুন্দর গড়াই বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সিউড়ি বিধানসভায় সরকারি অফিস গুলিতে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করছিল। তিনি স্পষ্ট বলেন তৃণমূল এখন 'প্রাক্তন' এবং তাদের শাসনের সময় শেষ। তাই পঞ্চায়েত অফিস থেকে তৃণমূল নেত্রীর ছবি সরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের 'প্রকৃত মুখ্যমন্ত্রী' হিসেবে তুলে ধরে তাঁর ছবি এবং সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও ভারতমাতার ছবি লাগানো হয়েছে। তিনি সরকারি আধিকারিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পঞ্চায়েত কোনও দলের নির্দেশে নয়, বরং সরকারি নিয়ম ও জনস্বার্থে চলবে। দাবি না মানলে বিজেপি কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।