'সে দিন ৫ হাজার TMC কর্মী খুন হতে পারত,' এ বার চন্দ্রনাথ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক ঋজু
আজ তক | ১১ মে ২০২৬
ঋজু দত্ত থামছেনই না। দলবিরোধী কার্যকলাপের জেরে ইতিমধ্যেই তাঁকে ৬ বছরের সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু রাগ কমছে না ঋজুর। তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত মুখপাত্র এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভিতরের দুর্বলতা প্রকাশ্যে আনলেন। একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করছেন ঋজু। এবার একেবারে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় ঋজু
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় ঋজুর মন্তব্য, 'সেদিন রাতে শুভেন্দু যদি প্রতিশোধের কথা বলতেন, তবে সারা বাংলায় রক্তপাত অনিবার্য ছিল। কিন্তু তিনি শান্ত থাকারই আবেদন করেছিলেন।' ঋজুর বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে। প্রকাশ্যে নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে রিজু দাবি করেছেন, শুভেন্দুর সংযমী ভূমিকার কারণেই রাজ্যে ভয়াবহ রাজনৈতিক হিংসা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অন্তত ৫ হাজার তৃণমূল কর্মী খুন হতে পারত
বিজেপির জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুন হন। সেই ঘটনার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই আবহেই ঋজু দত্ত বলেন, '৬ মে শুভেন্দু অধিকারীর পিএ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি যদি প্রতিশোধের ডাক দিতেন, তাহলে অন্তত ৫ হাজার তৃণমূল কর্মী খুন হতে পারত। কিন্তু তিনি শান্ত থাকার আবেদন করেছিলেন এবং কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তা দেন।'
শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবন আলাদা মাত্রার
শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রাকেও “অতুলনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন রিজু। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'ভারতের সেরা রাজনৈতিক নেতাদের তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অবশ্যই থাকবে। কিন্তু শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবন আলাদা মাত্রার। তিনি সাংসদ, মন্ত্রী ছিলেন এবং পরে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন।'
একইসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ঋজু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, দলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বহিরাগত সংস্থা I-PAC কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলেই দলের ক্ষতি হয়েছে। তাঁর কথায়, 'একটি বহিরাগত সংস্থা কীভাবে পুরো সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তার দায় দিদি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিতে হবে।' নির্বাচনে পরাজয়ের পর যখন তৃণমূলের অন্দরেই নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন রিজু দত্তের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক আরও উস্কে দিল।