গরমে ছুটিতে ঘুরে আসুন উত্তরের এই ৩ অফবিট হিল স্টেশনে, খুব কম লোকই চেনে
আজ তক | ১১ মে ২০২৬
Summer Vacation Destinations 2026: শহরের পারদ চড়ছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় গ্রীষ্মের ছুটি উঁকি মারতেই বাঙালির মন এখন ‘পাহাড়-পাহাড়’ করছে। কেউ ছোটেন ভিড়ে ঠাসা চেনা গন্তব্যে, আবার কেউ খোঁজেন নির্জনতা। গরমের ছুটিতে মন ও শরীর জুড়োতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের কোলে এমন কিছু জায়গা আছে, যা আপনার ক্লান্তি ধুয়ে দেবে মুহূর্তেই। একঘেয়েমি কাটাতে ঝটপট ব্যাগ গুছিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই ৩ ঠিকানায়।
রাবাংলা
সিকিমের কথা উঠলেই রাবাংলার নাম আসবেই। যারা একটু শান্ত এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে রাবাংলা স্বর্গ। এখানকার প্রধান আকর্ষণ তথাগত সলি বা বুদ্ধ পার্ক। বিশালকার সোনালি বুদ্ধমূর্তি আর বৌদ্ধ মন্দিরের কারুকার্য দেখলে চোখ ফেরানো যায় না। শুধু স্থাপত্য নয়, এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, পান্ডিম, সিনিওলচু এবং কাবরুর মতো হিমালয়ান রেঞ্জকে চোখের সামনে জীবন্ত মনে হয়। এখানকার সর্পিল পাহাড়ি রাস্তা আর মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আপনাকে বারবার ফিরে আসতে বাধ্য করবে।
সান্তুক
ভিড়ভাট্টা পছন্দ নয়? তাহলে কালিম্পং জেলার এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম সান্তুক আপনার জন্য আদর্শ। রেয়িং এবং পায়ুং নদীর মাঝে অবস্থিত এই গ্রামটি এখনও অনেকের অজানা। চারদিকে পাইনের ঘন জঙ্গল আর তার মাঝখান দিয়ে উঁকি দিচ্ছে তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা, এই দৃশ্য দেখার জন্য দূরবীন লাগে না। হাতে মাত্র ২-৪ দিনের ছুটি নিয়ে অনায়াসেই এই শান্ত নিরিবিলি গ্রামে কটা দিন কাটিয়ে আসা যায়। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা এখানে কথা বলে।
পানবুদারা
যাঁরা কাঞ্চনজঙ্ঘাকে খুব কাছ থেকে দেখতে চান, তাঁদের গন্তব্য হোক পানবুদারা। এই ভিউ পয়েন্ট থেকে বরফে ঢাকা পাহাড়ের ১৮০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়। মনে হবে, হাত বাড়ালেই বুঝি ছোঁয়া যাবে শৃঙ্গগুলোকে। সন্ধে নামলে পাহাড়ের গায়ে বিন্দু বিন্দু আলোর মালা এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। এখান থেকে খুব সহজেই আপনি চারখোল, দূরপিনদারা কিংবা ঝান্ডিদারার মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরে নিতে পারেন। তাই দেরি না করে ট্রেনের টিকিটটা কেটেই ফেলুন।
সব কটি জায়গাতেই শিলিগুড়ি থেকে কয়েক ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায়। ফলে খরচও প্রায় একই রকম। শাটল গাড়ি যায়, তবে ঘোরার সম্পূর্ণ মজা নিতে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভাল।