রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে পুরুলিয়ায় (Purulia)। পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ‘তৎকাল’ বিজেপি কর্মীদের অতি সক্রিয়তাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরাসরি ময়দানে নামতে হয় বিজেপি কর্মীদের। রাজ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পরেই রাতারাতি ভোলবদল ঘটে পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একাংশ তৃণমূল শ্রমিক আইএনটিটিইউসি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের।
অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি শ্রমিক সংগঠন ‘ভারতীয় জনতা মজদুর সংঘ’-এর নাম ব্যবহার করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কিছু ব্যানার ও পোস্টার লাগানো হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, সেইসব পোস্টারে মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নাম ও ছবি ছিল স্থানীয় একাধিক পরিচিত তৃণমূল নেতার। বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের নজরে আসতেই উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা বিজেপির নেতারা।
বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, “তৃণমূলের শ্রমিক নেতারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে রাতারাতি বিজেপি সেজে বসেছেন। মূল বিজেপি ও মজদুর সংঘের নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে এই পোস্টার লাগানো হয়েছে। বিজেপির আদর্শহীন কোনও নেতাকে দলে জায়গা দেওয়া হবে না।” ঘটনাস্থলেই বিজেপি কর্মীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিতর্কিত সেই পোস্টার ও ব্যানারগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। এর ফলে বেশ কিছুক্ষণ বাসস্ট্যান্ড এলাকা উত্তপ্ত থাকে।উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই পুরুলিয়া জেলা বিজেপি সভাপতি শংকর মাহাতো সংবাদ সম্মেলন করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, দলের দুর্দিনে যারা পাশে ছিলেন না, সেইসব ‘তৎকাল’ বিজেপি নেতাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। আজ সেই বার্তারই প্রতিফলন দেখা গেল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের অপশাসন থেকে বাঁচতে যারা রাতারাতি গেরুয়া আবির মেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এই শুদ্ধকরণ অভিযান জেলাজুড়ে অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তৃণমূল শিবিরের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।