চলন্ত ট্রেনেই এক যাত্রী গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনা ঘটেছে কলকাতা-জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস ট্রেনে। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় (পূর্বতন মোগলসরাই) স্টেশন ছাড়ার পরেই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুন করে নেমে যায় বলে জানা গিয়েছে। বারাণসী স্টেশনে আসার পরে নামানো হয় ওই যাত্রীর দেহ। কী কারণে তাঁকে খুন করা হয়েছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম দীনেশ শাহ (৪২)। তাঁর বাড়ি বিহারে গয়া (Gaya) জেলার পিপারিয়া এলাকার বড়চাকিতে। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) সীতাপুরের নৈমিষারণ্য ধাম যাচ্ছিলেন তিনি। কলকাতা-জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস (Kolkata-Jammu Tawi Express) ট্রেনের এস-২ কামরায় ছিলেন ওই দম্পতি। ওই ট্রেনের সাধারণ কামরায় ছিলেন তাঁর শাশুড়ি, বোন এবং দুই সন্তান।
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাত ১টা ৪০ নাগাদ পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন ছাড়ার পরেই তিনি খুন হন। জানা গিয়েছে, শৌচালয়ে গিয়েছেন দীনেশ। তখনই এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি দীনেশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনেই আতঙ্ক ছড়ায় অন্য যাত্রীদের মধ্যে। এ দিকে ওই ট্রেনের গতি একটু কমতেই পালিয়ে যায় ওই আততায়ী।
সোমবার রেল পুলিশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বারাণসী (Varanasi) স্টেশন আসার পরেই নামানো হয় দীনেশের দেহ। খবর দেওয়া হয় সাধারণ কামরায় থাকা পরিবারের লোকজনদের।
সেখানকার রেল পুলিশের সুপার প্রশান্ত ভার্মা জানিয়েছেন, এই খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে এই খুন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এর পিছনে ডাকাতির কোনও সম্পর্ক নেই তা নিয়ে নিশ্চিত আধিকারিকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, দীনেশের কাছে থাকা টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর গয়না সুরক্ষিত আছে। ওই কামরায় ডাকাতি বা লুটের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার নেপথ্যে পুরোনো কোনও শত্রুতা আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
তবে এই ঘটনার পরে যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।