তীব্র প্রতিযোগিতামূলক সময়ে কর্মক্ষেত্রে তীব্র চাপ। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই যৌনতার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন। আর তাঁদের কাছে এই সমস্যার চটজলদি সমাধান হলো বাজারে দেদার বিকোনো যৌন উত্তেজক ওষুধ। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই হাতের নাগালে চলে আসে সিলডেনাফিল বা টাডালফিলের মতো ওষুধ। আর সরকারি দাবি অনুযায়ী এই ফাঁক দিয়েই চলছে এই সকল ওষুধের অবৈধ ব্যবসা। সরকারের মতে যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এ বার এই অবৈধ কারবার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন বা CDSCO। সব রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলারদের এই নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা DCGI, ডঃ রাজীব সিং রঘুবংশী।
সংবাদমাধ্যম ‘মিন্ট’-এর হাতে আসা নথি অনুযায়ী, এই ধরনের ওষুধের অবৈধ বিক্রিতে শুধু শারীরিক ঝুঁকি বাড়ছে তা নয়, একই সঙ্গে এটি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্র। বিশেষ করে অল্পবয়সীদের মধ্যে এই ধরনের ওষুধগুলির অপব্যবহার বাড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা।
BJP-র রাজ্যসভার সাংসদ, ডঃ অজিত মাধবরাও গোপচাড়ে প্রথম এই বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর মতে, পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি বা যৌনতা নিয়ে উদ্বেগের মুখে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্যে যুবসমাজ এই ওষুধগুলির নেশায় বুঁদ হয়ে যাচ্ছে। এর পরেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সিলডেনাফিল বা ডাপোক্সেটিনের মতো ওষুধ সেবন করলে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া বা হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই কালোবাজারি রুখতে চার দফা নির্দেশিকা জারি করেছে DCGI:
- অবৈধ ক্লিনিক, অননুমোদিত ফার্মেসি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে নিয়মিত ঝটিকা অভিযান।
- বর্তমান আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে যাতে নকল বা অবৈধ ড্রাগ বাজারে না আসতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করা।
- পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে এই ওষুধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা, এই ওষুধগুলিকে যাতে 'বিপজ্জনক ড্রাগ' হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া।
- প্রেসক্রিপশন ও লাইসেন্সিং শর্তাবলি কঠোর ভাবে মেনে চলা, যাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সই করা অরিজিনাল প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ওষুধ কোনও ভাবেই দেওয়া না হয়।
যৌনক্ষমতা বর্ধক ওষুধের বাজারে রয়েছে সান ফার্মা, সিপলা বা ম্যানকাইন্ডের মতো নামী সংস্থাগুলি। তবে নকল ওষুধের রমরমা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করছে কেন্দ্র।