• ‘হিন্দু ধর্মের অবমাননা, তরুণীরা ছিল লালসার পণ্য’! TCS নাসিক নিয়ে বিস্ফোরক রিপোর্ট NCW-র
    এই সময় | ১২ মে ২০২৬
  • টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা TCS-এর মতো নামী সংস্থার মাসিক ইউনিটে অন্দরে কি সত্যিই চলছিল ধর্মান্তকরণের ছক? তরুণী কর্মীদের ব্যবহার করা হতো লালসার পণ্য হিসেবে? নাসিকের ঘটনায় গত ৮ মে মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে ৫০ পৃষ্ঠার এক রিপোর্ট জমা দিয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন বা NCW। সেই রিপোর্টের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় উঠে এসেছে ‘প্রাতিষ্ঠানিক উৎপীড়ন’ ও ‘ধর্মীয় সন্ত্রাস’-এর হাড়হিম করা বিবরণ।

    সূত্রের খবর এই রিপোর্টে কমিশন দাবি করেছে, TCS-এর নাসিক BPO ইউনিটে এক নারকীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। অভিযুক্ত দানিশ, তৌসিফ এবং রাজা মেমন কার্যত অফিসটি নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছিল। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, তারা বেছে বেছে তরুণী ও অসহায় কর্মীদের নিশানা করত। শারীরিক হেনস্থার পাশাপাশি চলত চরম মানসিক নিগ্রহ।

    প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, অশ্বিনী চৈনানি সবকিছু জেনেও নীরব ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর এই নীরবতায় অপরাধীরা আরও প্রশ্রয় পেয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।

    NCW-এর রিপোর্টে সবথেকে বিস্ফোরক অভিযোগটি হলো ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ। রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হিন্দু পুরাণ ও হিন্দু ঐতিহ্য নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করত। মহিলা কর্মীদের বোঝানো হতো, ইসলাম ধর্মই শ্রেষ্ঠ। এমনকী তফশিলি জাতির এক কর্মীকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও করা হয়েছিল।

    TCS-এর মতো কর্পোরেট সংস্থায় এই ধরনের অভিযোগ ওঠা নিয়ে অনেকেই বিস্মিত। কারণ এই ধরনের সংস্থায় কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা প্রতিরোধ আইন বা ‘POSH Act’ বলবৎ থাকে। তবে NCW-এর তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, নাসিকের ওই অফিসে ‘POSH Act’ কখনও প্রয়োগই করা হতো না। এর ধারণাই চালু ছিল না বলা চলে।

    আরও রহস্যজনক ঘটনা হলো, অফিসের CCTV ক্যামেরাগুলিকে অকেজো করে রাখা হয়েছিল। NCW-এর তদন্তকারীদের দাবি, শুধুমাত্র প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয় এটা নয়। তাদের মতে, এটা সুপরিকল্পিত ‘গভর্নেন্স ডেফিসিট’ বা সুশানের ঘাটতি। বর্তমানে নাসিক পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা SIT মোট ৯টি FIR-এর ভিত্তিতে এই ঘটনার তদন্ত করছে।

  • Link to this news (এই সময়)