বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছে গিয়েছিলেন বর। পাশে ছিলেন কনে। শুরু হয়ে গিয়েছিল বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান। এর মাঝে বিয়ের আসরেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন পাত্র। তাতেই ছন্দপতন। বরকে এমন ভাবে লুটিয়ে পড়তে দেখে বেঁকে বসেন কনে। বরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। সন্দেহ নিরসনে বরের ফিট সার্টিফিকেট দেখতে চাওয়া হলে ভেঙে যায় বিয়ে। উত্তরপ্রদেশের এটাহ জেলায় সাকিত এলাকার এক বিয়েবাড়িতে ঘটেছে এমনই নাটকীয় ঘটনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোটওয়ালি দেহাত এলাকার কথোলি গ্রামের বাসিন্দা পাত্র রবিবার সন্ধ্যায় বরযাত্রী নিয়ে সাকিতের একটি গেস্ট হাউসে বিয়ের জন্য পৌঁছন। সেখানে নাগলা ফুলে গ্রামের বিজয় সিংহের মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সব কিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, কিন্তু বিয়ের রীতিনীতি চলাকালীন আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন বর।
বরের এই অসুস্থতায় বিয়েবাড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে কনে, পরে কনের পরিবার দাবি করে, বরের শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তা বিয়ের জন্য গোপন করা হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, বর গুরুতর অসুস্থ এবং সেই তথ্য বিয়ের আগে জানানো হয়নি। এর পরে কনে পক্ষ বরের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখতে চায়। তাতে তুঙ্গে ওঠে উত্তেজনা।
এই দাবি ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কনের পরিবার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, স্বাস্থ্য রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তারা বিয়ে দেবে না।
শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনও সমাধান বের হয়নি এবং কনে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এর পরে বিয়ের পাত্র বিয়ে না করেই বরযাত্রীর সঙ্গে ফিরে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই কনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। বিয়ের আগে দুই পক্ষেরই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য স্বচ্ছভাবে জানানো উচিত বলে মন্তব্য নেটিজ়েনদের।