গুজরাটের ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরে সোমবার অনুষ্ঠিত হল ‘সোমনাথ অমৃত মহোৎসব’। মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিথ্যার উপর সত্যের জয় হবেই।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, স্বাধীনতার চেতনা এবং সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস।
ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি দেন। এরপর তিনি দাবি করেন, ১৯৫১ সালে সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল স্বাধীন ভারতের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রতীক। তাঁর কথায়, ‘ভারত ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পেলেও, ১৯৫১ সালে সোমনাথ মন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল স্বাধীন জাতির হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার প্রকৃত ঘোষণা।’
প্রধানমন্ত্রী এদিন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকাও বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যেভাবে সর্দার প্যাটেল ৫০০-রও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে আধুনিক ভারতের ভিত গড়েছিলেন, ঠিক তেমনই সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ বিশ্বের সামনে ভারতের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের বার্তা দিয়েছিল। মোদীর দাবি, এটি প্রমাণ করেছিল যে ভারত শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাই অর্জন করেনি, বরং নিজের ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের পথেও এগোচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর প্রসঙ্গও টানেন মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পরে দেশের একাংশ ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’-কে জাতীয় আত্মসম্মানের উপরে স্থান দিয়েছিল। তাঁর দাবি, সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের বিরোধিতা করা হয়েছিল রাজনৈতিক কারণে। অন্যদিকে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং সর্দার প্যাটেলের ভূমিকাকে প্রশংসা করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সাল সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বছরই মন্দিরে প্রথম আক্রমণের ১০০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ইতিহাস অনুযায়ী, ১০২৬ সালে প্রথমবার সোমনাথ মন্দির আক্রান্ত হয়। পরে স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে মন্দিরটির পুনর্নির্মাণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনারই ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার আয়োজিত হয় ‘অমৃত মহোৎসব’।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী সোমনাথ মন্দিরে পুজোও দেন। পাশাপাশি গুজরাটে তাঁর রোড শো ঘিরেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিজেপির পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানকে ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।