আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদলালেও বদলায়নি ভোট পরবর্তী হিংসার ছবি। এবার বিজেপিকে সমর্থন করার ‘অপরাধে’ প্রাণ দিতে হল নদিয়ার যুবক আজিম খানকে(২৩)। তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে পিটিয়ে মারার অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। সোমবার সকালে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই যুবকের। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত আজিম খানের বাড়ি নদিয়ার কালিগঞ্জ থানার শেরপুর গ্রামে। পরিবারের দাবি, ভোটের ফল ঘোষণার দিন বাজি ফাটিয়েছিল আজিম। সেই ‘অপরাধেই’ শুক্রবার প্রথমে তাঁকে মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং চলে বেধড়ক মারধর।
অভিযোগ, সেখানেই থামেনি আক্রোশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় তৃণমূল সমর্থকরা আজিমের বাড়িতে চড়াও হয়। বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে আজিম ও তাঁর ভাইকে বেধড়ক পেটানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ২৩ বছরের আজিম। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে।
আজিমের জেঠিমা সবিতা বিবি বলেন, "আমার দেওরের ছেলে আজিম ভোটের ফলাফল বেরনোর পর রাতে বাড়ির কাছে কালিপটকা ফাটিয়েছিল। তারপর থেকেই আমাদের পাশের বাড়ির তৃণমূল সমর্থকরা আমাদেরকে অকথ্য গালিগালাজ শুরু করে এবং আজিমকে প্রাণে মারার হুমকিও দিয়েছিল। আমার স্বামী বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়া কথাও বলেছিলেন । কিন্তু শুক্রবার হঠাৎই তারা বাড়িতে চড়াও হয়ে আমাদের মারধর করে। তৃণমূল সমর্থকদের সন্দেহ হয়েছিল আমাদের পরিবার বিজেপি জেতার আনন্দে বাজি ফাটিয়েছে। আমাদের কয়েকজন বিজেপি সমর্থন করলেও কেউ সক্রিয় রাজনীতি করে না।" তিনি আরও বলেন, "আজিমকে এতটাই মারধর করা হয়েছিল যে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেখানেই আজ সকালে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”