আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা ভোট মিটতেই তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর দুর্নীতি ফাঁস। সোমবার রাতে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হাতে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। এরপরই প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র তথা আইনজীবী দেবজিৎ সরকার।
আজকাল ডট ইন-কে দেবজিৎ জানিয়েছেন, 'পুর নিয়োগ দুর্নীতি, এমন একটা দুর্নীতি, যাতে গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চোখের সামনে দেখেছিলেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি চু্রি হচ্ছে, চাকরি দোকানে বিক্রি হচ্ছে। নেতাদের কাছের মানুষ হলেই বা তৃণমূলের পরিবারের লোকজন এইসব চাকরি পেয়েছিল। তার সঙ্গে টাকা লেনদেনের বহু অভিযোগ উঠেছিল। এইসব অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে, আজকের এই গ্রেপ্তারি।'
এরপরই তিনি বলেন, 'আমাদের সরকার কাউকে আড়াল করবে না, এই আশা রাখব। আমাদের রাজ্য সরকার কোনও দলীয় সরকার হিসেবে কাজ করবে না। আইন আইনের পথে চলবে। যদি বিচারকরা মনে করেন, সাজা হবে, তাহলে তাই হবে। সাধারণ মানুষের তরফ থেকে আমাদের একটাই আর্জি, যেসব হতভাগাদের চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে, যাঁরা চাকরি পাননি, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় ঘুরে বেরিয়েছেন, যাঁদের টাকা ও মেধা দুটোই লুট হয়ে গেল, তাঁরা যেন যোগ্য বিচার পান।'
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এদিন সকাল ১০টায় সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিত বসু। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু এবং আইনজীবী। সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরা করার পরে গ্রেপ্তার হয়েছে সুজিতকে। ইডি সূত্রে খবর, বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি এবং অসহযোগিতা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।
এর আগে একই মামলায় কোর্টের নির্দেশে ১ মে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিত। প্রায় ৯ ঘণ্টা সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তাঁকে। ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে সুজিত দাবি করেছিলেন, যেই মামলায় ইডি তাঁকে ডেকেছে, সেই মামলায় সিবিআই ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ করে দিয়েছে। সেই চার্জশিটে তাঁর নাম নেই। সুজিতের বয়ান খতিয়ে দেখে ফের তাঁকে তলব করে ইডি। সোমবার সকালে ইডি দপ্তরে আসেন প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম এবং হালিশহর-সহ বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক কারচুপি হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল ও অন্যান্য অভিযুক্তদের জেরা করে ইডি। সেই সময় অয়নের বাড়ি থেকে বেশ কিছু নথিও উদ্ধার হয়। সেই উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতে দুই হেভি ওয়েট নেতার নাম উঠে আসে। রথীন ঘোষ ও সুজিত বসু।