• BJP র জয়ে SIR এর প্রভাব কতটা? আন্দাজ নয়, বাস্তব পরিসংখ্যান জানুন
    আজ তক | ১২ মে ২০২৬
  • Bengal Election 2026: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের নেপথ্যে কি SIR? অনেকেই এই নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। তবে তার বেশিরভাগটাই পরিসংখ্যানহীন। ভোটের অঙ্ক ও SIR-এর সংখ্যা তুলনা না করলে সঠিকটা বোঝা অসম্ভব। তাই সেটাই করে দেখা হল bangla.aajtak.in এর এই প্রতিবেদনে। 

    শুরুতেই যেটি লক্ষ্যণীয়, তা হল যে ৮৭টি আসনে তৃণমূলের কাছ থেকে বিজেপি ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে, তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিজেপির জয়ের ব্যবধান ছিল SIR-এ বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। অর্থাৎ, বহু আসনে বাদ পড়া ভোটার না থাকলেও ফল বদলানো ছিল কঠিন। তবে কিছু আসনে SIR-এর প্রভাবে বিজেপি একটুর জন্য হলেও জিতে গিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

    নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে মোট প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটার মৃত অথবা রাজ্যের বাইরে চলে গিয়েছেন বলে জানানো হয়। আরও ২৭ লক্ষ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয় বিচার প্রক্রিয়ার পরে। ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বিভাগে প্রায় ৬০.০৬ লক্ষ নাম যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল।

    এ বারের নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ২০৭টি আসনে। ২০২১ সালে তাদের আসন সংখ্যা ছিল ৭৭।

    অন্য দিকে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২১৫ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮০-তে। কংগ্রেস এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি দু'টি করে আসন পেয়েছে। সিপিএম এবং AISF পেয়েছে একটি করে আসন।

    বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বহু আসনে বিজেপির জয়ের ব্যবধান বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। যেমন চুঁচুড়া কেন্দ্রে ১১,৮২৮ জন ভোটার বাদ পড়েছিলেন। সেখানে বিজেপির জয়ের ব্যবধান ছিল ৪৩,৪৩৫ ভোট। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র তৃণমূল ১৮,৪১৭ ভোটে জিতেছিল।

    একই ভাবে বলাগড়ে ৭,৩৫২ জন ভোটার বাদ পড়লেও বিজেপির জয়ের ব্যবধান ছিল ৪১,৯১৪ ভোট। রানিবাঁধে মাত্র ৫২২ জন ভোটার বাদ পড়লেও বিজেপি জেতে ৫২,২৬৯ ভোটে।

    তবে কিছু ক্ষেত্রে SIR-এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যেমন কুশমন্ডিতে ২০২১ সালে বিজেপি ১২,৫৮৪ ভোটে হেরেছিল। এ বার তারা ৯,০৬৩ ভোটে জিতেছে। অথচ সেখানে ১৩,৫০০ ভোটার বাদ পড়েছিলেন।

    একইভাবে করণদিঘিতে বিজেপি ২০২১ সালে ৩৬,৬২৬ ভোটে হেরেছিল। এবার জিতেছে ১৯,৮৬৯ ভোটে। সেখানে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩১,৫৬২।

    তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। রাজ্যের মাত্র ১৪টি আসনে তারা আগের চেয়ে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে পেরেছে। বজবজে তৃণমূলের ব্যবধান ৪৪,৭১৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৬,৮৫০। চোপড়ায় ব্যবধান বেড়ে হয়েছে ৬৯,১২৪। তবে কেশপুর এবং ক্যানিং পূর্বের মতো কিছু কেন্দ্রে ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    অন্য দিকে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক কেন্দ্রে তৃণমূল জিতলেও জয়ের ব্যবধান অনেক কমেছে। সিতাই কেন্দ্রে প্রায় ২০ হাজার ভোটার বাদ পড়েছিলেন। সেখানে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ১০ হাজারের বেশি থেকে কমে ৩ হাজারের নিচে নেমে আসে। সামশেরগঞ্জেও তৃণমূলের ব্যবধান ২৬ হাজার থেকে কমে ৮ হাজারের নিচে নেমেছে। উল্লেখ্য, এখানে প্রায় ৭৫ হাজার ভোটার বাদ পড়া নিয়ে ভোটের আগে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    বিজেপিও যে সব আসনে সমানভাবে শক্তিশালী ছিল, এমনও নয়। দার্জিলিংয়ে বিজেপি জিতলেও জয়ের ব্যবধান ২১,২৭৬ থেকে কমে ৬,০৫৭ হয়েছে। বহরমপুর এবং তুফানগঞ্জেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য জুড়ে বিজেপির ঝড় থাকলেও স্থানীয় অসন্তোষ এবং অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সির প্রভাব দুই দলের ক্ষেত্রেই কাজ করেছে। 
  • Link to this news (আজ তক)