• এসআইআর বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ৩১ টি আসনের ফলাফলে প্রভাবের অভিযোগ তৃণমূলের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ মে ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিতর্ক আরও তীব্র আকার নিল। সোমবার মামলার শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, রাজ্যের অন্তত ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিচারাধীন বা বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট আসনের জয়ের ব্যবধানের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। দলের অভিযোগ, এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নির্বাচনের ফলাফলে।

    ভোটের ফল ঘোষণার পর এই মামলায় সোমবার প্রথম শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। তৃণমূলের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় চলে যায় এবং সেই অবস্থাতেই বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

    কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, ‘আমি ৩১টি আসনের উদাহরণ দিতে পারি, যেখানে বাদ পড়া বা বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যার তুলনায় জয়ের ব্যবধান অত্যন্ত কম। একটি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মাত্র ৮৬২ ভোটে হেরেছেন, অথচ সেখানে পাঁচ হাজারের বেশি ভোটারের আবেদন এখনও বিচারাধীন।’

    তৃণমূলের বক্তব্য, বিচারাধীন আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না করেই নির্বাচন করানোয় ভোটের ফল প্রভাবিত হয়েছে। দলের আরও দাবি, বহু আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের তুলনায় বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা বেশি ছিল, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

    এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় গঠিত ট্রাইবুনাল নিয়েও আদালতে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করেছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে কয়েক জন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়। সেই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, ‘কাউকে তো বাধ্য করতে পারি না আপনি কাজ করুন।’

    এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি স্পষ্ট করেন, যদি নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিক প্রভাব পড়ার অভিযোগ তুলে মামলা করতে হয়, তাহলে অতিরিক্ত আবেদন জানিয়ে পৃথক মামলা দায়ের করতে হবে। আদালত আরও জানায়, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ভোটগ্রহণ ও ফলপ্রকাশ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরে এখন আইনি পথ হল নির্বাচন পিটিশন দায়ের করা। তৃণমূলও আদালতে জানিয়েছে, সেই পথে যেতে তাদের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচনী মামলার শুনানির সময় এসআইআর-সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ও বিবেচনা করার আর্জি জানিয়েছে শাসকদল।

    যদিও ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল তার প্রচারের সময় দাবি করেছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেশিরভাগ হিন্দু এবং বিজেপির ভোটার বাদ পড়েছে। ফলে এই নির্বাচনে বিজেপির সমর্থন কমবে। কিন্তু গণনার পর অন্য চিত্র উঠে এসেছে। ফলে শীর্ষ আদালতে তৃণমূলের উল্টো দাবি কতটা বাস্তব সম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলেই।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ও তার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)