• নবান্নে শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির সিইও! ফলতার ভোট মিটলেই কি রাজ্য প্রশাসনের কোনও পদে বসবেন মনোজ? জল্পনা তুঙ্গে
    আনন্দবাজার | ১২ মে ২০২৬
  • নবান্নে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে হাজির ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল। বর্তমানে তিনি রাজ্য সরকারের কোনও পদে নেই। তা সত্ত্বেও প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর হাজির থাকা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অদূর ভবিষ্যতে রাজ্য প্রশাসনের কোনও শীর্ষ পদে তাঁকে বসানো হবে? তবে নবান্ন বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে এ ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য জানানো হয়নি।

    রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম কর্মদিবসেই নবান্নে আসেন শুভেন্দু। সোমবার একাধিক বৈঠক করেন তিনি। প্রথমেই প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক ছিল তাঁর। তার পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকও করেন। এ ছাড়া, জেলাশাসকদের নিয়েও বৈঠক ছিল শুভেন্দুর। পরে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়েও বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। নবান্নে শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠকে মনোজের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।

    মুখ্যমন্ত্রীর কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কোনও পদাধিকারীর হাজির থাকার কোনও নিয়ম নেই। তবে ‘প্রোটোকল’ ভেঙে মনোজের হাজির থাকার নেপথ্য কারণ নিয়ে ‘রহস্য’ দানা বেঁধেছে। নবান্নের একাংশের বক্তব্য, রাজ্য প্রশাসনের কোনও শীর্ষ পদে নিয়োগ করা হতে পারে মনোজকে। তবে এই নিয়োগ এখনই হবে না। ফলতার ভোট মেটার পরই মনোজকে রাজ্য প্রশাসনে যুক্ত করা হতে পারে।

    রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় ভোটগ্রহণ ছিল। তবে ভোটগ্রহণ নিয়ে নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। অনেকেই ওই বিধানসভা কেন্দ্রের কিছু বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কমিশন জানায়, ফলতার বহু ভোটকেন্দ্রে গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে গোটা বিধানসভা কেন্দ্রেরই ভোট বাতিল করা হচ্ছে। আগামী ২১ মে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। আর ভোটের ফলপ্রকাশ হবে ২৫ মে। নবান্নের একাংশের মতে, মনোজ যেহেতু এখনও রাজ্যের সিইও, তাই ফলতার ভোটপর্ব না-মিটলে তাঁকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। নির্বাচন হয়ে গেলে মনোজকে প্রশাসনের কোনও উচ্চপদে বসানো হতে পারে। উল্লেখ্য, মনোজের কর্মজীবনের মেয়াদ ৩১ জুলাই পর্যন্ত। যদি তাঁকে রাজ্য প্রশাসনে যুক্ত করা হয়, তবে কী দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও কৌতূহল নানা মহলে।

    প্রসঙ্গত, শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার দিনই তাঁর উপদেষ্টা হিসাবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করে নবান্ন। এসআইআর পর্বে এই সুব্রতকে রোল অবজ়ার্ভারের দায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন। তাঁর কাজে খুশি হয়ে পরে নির্বাচনের সময় সুব্রতকে বিশেষ পর্যবেক্ষকও করা হয়। ভোটপর্ব মিটতে বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে কমিশন অব্যাহতি দেওয়ার পরে নবান্ন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করে। মনোজের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটতে চলেছে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)