সিইও মনোজ অগ্রবাল এ বার রাজ্যের মুখ্যসচিব! মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন, তার পরেপরেই বিজ্ঞপ্তি জারি
আনন্দবাজার | ১২ মে ২০২৬
রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যসচিব হচ্ছেন মনোজ অগ্রবাল। পশ্চিমবঙ্গেরমুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) হিসাবে বিধানসভা নির্বাচন সামলেছেন তিনি। বর্তমানেরাজ্যের মুখ্যসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। তাঁকে পাঠানো হচ্ছেদিল্লিতে।
নতুন সরকারের আমলে প্রশাসনিক স্তরে যে বড় রদবদল হতে চলেছে,তার আভাস আগেই মিলেছিল। একের পর এক আমলা নিয়োগ শুরু হয়েছিল শনিবার থেকেই। সোমবারছিল বিজেপি সরকারের প্রথম কর্মদিবস। আর সে দিনই রাজ্যের মুখ্যসচিব বদলের কথা জানালনবান্ন।
সোমবার নবান্নে একাধিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুঅধিকারী। প্রথমেই প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক ছিল তাঁর।জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মনোজ। নবান্নে শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠকেমনোজের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় প্রশাসনিক মহলে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে,তবে কি এ বার তাঁকে রাজ্য প্রশাসনে কোনও পদের দায়িত্ব দেওয়া হবে? সেই জল্পনাকল্পনারমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মনোজকে মুখ্যসচিব হিসাবে নিয়োগের কথা জানাল নবান্ন।
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর রাতারাতিরাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপদে বদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব পদে থাকা নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়েদুষ্মন্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচনপর্ব জুড়ে তিনিই মুখ্যসচিবের দায়িত্বসামলেছেন। নতুন সরকার কাজ শুরুর পর পরই এ বার সেই পদে বদল হল। দুষ্মন্তকে পাঠানোহল দিল্লিতে রেসিডেন্ট কমিশনার হিসাবে। তিনি ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস।
মনোজ ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস। রাজ্যের সিইও পদে দায়িত্বসামলানোর আগে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। কয়েকটি দফতরের সচিবও ছিলেন মনোজ।তাঁর নেতৃত্বেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনা হয়। এ বারের নির্বাচন মোটের উপরশান্তিপূর্ণ ছিল। বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তির ঘটনা ঘটলেও তেমন বড় কোনও ঘটনা ঘটেনি।ভোটের ভাল কাজের জন্য দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রশংসাওকুড়োন মনোজ। ভোট মিটতে এ বার সেই মনোজই রাজ্য প্রশাসনে মুখ্যসচিবের দায়িত্বপেলেন।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের সিইও-রদায়িত্ব থেকে মনোজকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অনেকেই ভেবেছিলেন, ফলতার নির্বাচন মেটার পরই রাজ্য প্রশাসনে যুক্ত করাহতে পারে সিইও মনোজকে। তবে শুভেন্দুর বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরই মনোজকে মুখ্যসচিব করারকথা ঘোষণা করা হল।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার দিনই তাঁর উপদেষ্টা হিসাবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করে নবান্ন। এসআইআর পর্বে এই সুব্রতকে রোল অবজ়ার্ভারের দায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন। তাঁর কাজে খুশি হয়ে পরে নির্বাচনের সময় সুব্রতকে বিশেষ পর্যবেক্ষকও করা হয়। ভোটপর্ব মিটতে বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে কমিশন অব্যাহতি দেওয়ার পরে নবান্ন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করে। এ বার বিধানসভা ভোটের কাজে যুক্ত থাকা কমিশনের আরও এক পদাধিকারীকে প্রশাসনে যুক্ত করল নবান্ন।
মনোজের নিয়োগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের প্রশংসা করেছে বিজেপি। একই সঙ্গে পূূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলা নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে কটাক্ষও করে। তাদের দাবি, মমতা আমলা নিয়োগের নিয়ম লঙ্ঘন করতেন। তবে বর্তমান সরকার সেই পথ থেকে সরে এসে দেশের আইনের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মনোজকে মুখ্যসচিব হিসাবে নিয়োগ করেছে।