দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৫০ জন উচ্চপদস্থ আমলা একটি নির্দিষ্ট এলাকাতেই জমি কিনেছিলেন। সেটা ছিল ২০২২ সাল। বিপুল পরিমাণ জমি কেনা হয়েছিল একটিমাত্র রেজিস্ট্রির মাধ্যমে। এর কয়েক মাস পরেই ওই এলাকার একেবারে কাছে অনুমোদিত হয়েছিল ‘ওয়েস্টার্ন বাইপাস’ প্রকল্প। যার জেরে মাত্র দু’বছরে ওই জমির দাম বেড়ে গিয়েছে প্রায় ১১ গুণ। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ‘ইমমুভেবল প্রপার্টি রিটার্নস’ বা IPR স্ক্রুটিনি করতে গিয়েই সামনে এসেছে জমি কেনাবেচার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে কি এই সরকারি প্রকল্পের খবর আগেভাগেই পৌঁছে গিয়েছিল প্রভাবশালীদের কানে? আর সেই আগাম পাওয়া খবরকেই অন্যায্য সুবিধা লাভের কাজে লাগিয়েছেন তাঁরা?
‘দৈনিক ভাস্কর’ সংবাদমাধ্যমের এক তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল ভোপালের কোলার এলাকার গুরাদি ঘাট গ্রামে ২.০২৩ হেক্টর জমি কিনেছিলেন ওই আমলারা। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো, একটিমাত্র রেজিস্ট্রির মাধ্যমে কেনা এই জমির ক্রেতার তালিকায় রয়েছেন ৫০ জন ব্যক্তি। IPR ফাইলিং-এ এই বিনিয়োগকে ‘সমমনস্ক অফিসারদের বিনিয়োগ’ বলা হয়েছে।
‘দৈনিক ভাস্কর’ এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জমি কেনার ঠিক ১৬ মাস পরে, ২০২৩ সালের ৩১ অগস্ট মধ্যপ্রদেশ ক্যাবিনেট ৩,২০০ কোটি টাকার ‘ওয়েস্টার্ন বাইপাস’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল। আমলাদের কেনা জমিটি ছিল প্রস্তাবিত বাইপাস প্রকল্পের মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে।
এই বাইপাস প্রকল্পের ঘোষণা হওয়ার পরেই ওই জমির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে যখন জমিটি কিনেছিলেন আমলারা, তখন সেখানে জমির দাম ছিল প্রতি বর্গফুট পিছু মাত্র ৮২ টাকা। আসলে সেই সময়ে ওই জমি চিহ্নিত ছিল কৃষি জমি হিসেবে।
এর পরে ২০২৪ সালের জুনে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ওই জমির ধরন কৃষি থেকে আবাসিকে পরিবর্তিত করেছিলেন ওই আমলারা বলে অভিযোগ। এতে ওই জমির দাম রাতারাতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর সরকারি মূল্যই বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫৭ টাকায়।
বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী, ওই এলাকায় জমির দাম এখন প্রতি বর্গফুট পিছু ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র ৫.৫ কোটি টাকা দিয়ে যে জমি কিনেছিলেন ওই আমলারা, সেই জমিই এখন ৬৫ কোটি টাকার সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।
এই তালিকায় শুধু মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের অফিসার নন, রয়েছেন মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গনা এবং হরিয়ানা ক্যাডারের IAS ও IPS অফিসাররাও। এমনকী দিল্লিতে কর্মরত কয়েকজন অফিসারের নামও এই তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত কোনও হাউজিং সোসাইটি নথিভুক্ত না হওয়ায় এই বিনিয়োগের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। বাইপাস প্রকল্পের অনুমোদনের আগে ওই জমিতে আমলাদের এই বিপুল বিনিয়োগ ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’-এর মতো গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
অর্থাৎ, গোপনে সরকারি প্রকল্পের খবর আগেই পেয়ে সেখানে বিনিয়োগ করেছেন আমলারা, এই অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। প্রভাবশালী সরকারি আমলাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই বড় মাপের দুর্নীতির অভিযোগের জল এখন কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।