• ‘অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবুন’, জ্বালানি বাঁচাতে স্কুলগুলিকে বার্তা মোদীর, আর কী বললেন?
    এই সময় | ১২ মে ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের (West Asia in War) জেরে জ্বালানিতে টান পড়েছে। তাই পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল এবং সোনা কেনায় রাশ টানার বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। রবিবারের পরে সোমবারও তাঁর মুখে শোনা গেল সেই একই কথা। গুজরাটের ভদোদরার সর্দারধাম হস্টেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘কিছু স্কুলকে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার অনুরোধ করব।’ সরকারি এবং বেসরকারি অফিসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।

    করোনার সময়ে গোটা বিশ্বেই ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হয়েছিল। ক্লাস হতো অনলাইনে। অফিসের কাজকর্মও সেই ভাবেই চলত। দেশবাসীকে আবার সেই রকম বাড়িতে বসে কাজ করার অনুরোধ করেছেন মোদী। এর পিছনে পেট্রল-ডিজ়েল বাঁচানোই আসল লক্ষ্য। মোদীর কথায়, ‘কোভিড অতিমারির সময়ে বাড়ি থেকেই স্কুল-কলেজের পড়াশোনা চলছিল। বর্তমান সংকটেও প্রযুক্তির সাহায্যে জ্বালানির ব্যবহার কমানো সম্ভব।’

    ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী বন্ধ। তেলবাহী সব জাহাজ কার্যত থমকে রয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়ছে। অবশ্য এই সংকট কেটে যাবে বলেও আশাবাদী মোদী। তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে পশ্চিম এশিয়ার সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কোভিড যেমন আমরা একসঙ্গে মোকাবিলা করেছি, তেমনই এই পরিস্থিতি থেকেও বেরিয়ে আসব।’ স্কুলের পাশাপাশি সরকারি এবং বেসরকারি অফিসগুলিতেও ওয়ার্ক ফ্রম হোমের উপরে জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

    রবিবার তেলঙ্গানার সেকেন্দরাবাদের একটি সভাতেও পেট্রল-ডিজ়েল, ভোজ্য তেল, রান্নার গ্যাসের ব্যবহার কমানোর আর্জি জানিয়েছিলেন মোদী। আগামী এক বছর বিদেশ ভ্রমণ, সোনা কেনায় রাশ টানার কথাও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। আসলে এগুলি বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। একে সরবরাহে সঙ্কট, তার উপরে দাম বেশি। তাই বৈদেশিক মুদ্রাভাণ্ডারে যাতে কোপ না পড়ে, তার জন্যই তিনি বার বার এই আবেদন জানাচ্ছেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

    বিশ্বজুড়ে কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব থেকে ভারত নিজেকে আলাদা করে রাখতে পারে না বলেই মত মোদীর। তিনি বলেন, ‘দেশের সম্পদের উপরে চাপ কমাতে আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিদেশ থেকে নানা পণ্য আমদানি করতে ভারতকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হয়। সেই সব পণ্যের দাম বাড়ছে। সরবরাহ কমছে। যেমন ফোঁটা ফোঁটা জলেই ঘড়া ভরে, তেমনই ছোট-বড় সব প্রচেষ্টাই গুরুত্বপূর্ণ।’

  • Link to this news (এই সময়)