চিংড়িহাটার কাছে মেট্রোর কাজ থমকে রয়েছে। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সোমবার পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব হাতে নিয়েই সেই থমকে থাকা কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিলেন অগ্নিমিত্রা পল। বলে দিলেন, ‘মেট্রোর কাজ দ্রুত গতিতে শুরু করাই এখন অগ্রাধিকার।’ সঙ্গে ১ জুন থেকেই যে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ৩ হাজার টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে, সেই প্রতিশ্রুতিও দিলেন অগ্নিমিত্রা।
নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো লাইনের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই থমকে রয়েছে। সেই নিয়ে মামলা গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। ৩১৬ বর্গমিটার অংশের কাজ নিয়েই যত ঝামেলা। এই অংশটা চিংড়িঘাটা মোড়ের কাছে। এখানে সম্প্রসারণের কাজের জন্য বাইপাসে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে বলে দাবি। পূর্বতন রাজ্য সরকার সেই অনুমতি না দেওয়ায় এতদিন কাজ থমকে ছিল বলে অভিযোগ। এ বার নতুন সরকার দ্রুত সেই কাজ শুরু করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
একটা সময়ে পুর ও নগরোন্নয় মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাতেন ফিরহাদ হাকিম। নতুন দায়িত্ব পেয়ে অবশ্য পুরোনো মন্ত্রীর নাম মুখে আনলেন না অগ্নিমিত্রা। বরং তাঁর লক্ষ্য কী সেটাই বুঝিয়ে দিলেন সবিস্তারে। অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘খুব বড় দপ্তর, অনেক কিছু করার আছে। মন্ত্রকের আওতায় ১২১টি মিউনিসিপ্যালিটি, ৭টি কর্পোরেশন এবং ৩টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ অথরিটি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ঘরে ঘরে শৌচালয়, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করব আমরা।’
১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান এবং সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ মহিলাদের সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন নতুন মন্ত্রী। সঙ্গে জানিয়েছেন গঙ্গা নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা। অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘গঙ্গার সৌন্দর্যায়নের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও কাজই হয়নি। পর্যটন ছাড়াও গঙ্গার দুই তীরে সার্বিক উন্নয়নের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এই দপ্তরের মাধ্যমে আমার সেই কাজ করব।’ উত্তরবঙ্গের শহরগুলির উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
পূর্বতন সরকারের জমানায় শহর জুড়ে পুকুর এবং জলাশয় ভরাটের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এর জন্য ‘তৃণমূলের দুর্নীতিকেই’ কাঠগড়ায় তুললেন অগ্নিমিত্রা। সোজাসুজি বলে দিলেন, ‘বিগত সরকারের জমানায় অনেক দুর্নীতি হয়েছে। এ বার জলাশয়গুলি রক্ষা করা হবে। গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নিয়ম সবাইকেই কঠোর ভাবে মানতে হবে।’ পরিবেশ রক্ষা করে কলকাতা-সহ সমস্ত মিউনিসিপ্যালিটি ও শহরগুলিকে সুন্দর করে গড়ে তোলাই যে তাঁর লক্ষ্য, জানিয়ে দিয়েছেন তাও।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে মিলবে তো? এটাই ছিল সবার প্রশ্ন। এ দিন বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পরে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দেন, বাংলার মহিলারা জুন থেকেই ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। অগ্নিমিত্রাও সেই রেশ ধরেই বললেন, ‘১ জুন থেকে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রত্যেক মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা পৌঁছে যাবে।’ মহিলাদের সুরক্ষা, পুলিশে মহিলা ব্যাটেলিয়ান তৈরির ভাবনার কথাও জানান তিনি।