• কার্গিল থেকে দেহ ভেসে পাকিস্তানে! বিদেশ মন্ত্রকের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত বাসিন্দাদের
    এই সময় | ১২ মে ২০২৬
  • অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি

    কার্গিলের খরস্রোতা শিঙ্গো এবং সুরু নদীর স্রোতে এ পারের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসিন্দাদের মৃতদেহ ভেসে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালতিস্তানে৷ বহু অনুরোধ–উপরোধের পরেও এই সব ভারতীয় নাগরিকের দেহ এপারে নিয়ে এসে নিজেদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী 'শেষকৃত্য' করার সুযোগও পান না এপারের বাসিন্দারা৷ এই আবহে কার্গিল শহর থেকে ১০ কিমি দূরে, ভারত- পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছে অবস্থিত হুন্দুরমান গ্রামের অধিবাসীরা ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তাঁদের দাবি, দু'দেশের নিয়ন্ত্রণরেখায় 'নো ম্যানস ল্যান্ড' বরাবর এমন কোনও একটি স্থান নির্ধারণ করা হোক, যেখানে ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনার উপস্থিতিতে ওপার থেকে মৃতদেহ ফেরানো সম্ভব হবে এ পারে। এই মর্মেই বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করকে চিঠি লিখবেন হুন্দুরমান গ্রামের বাসিন্দারা৷ এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন কার্গিলের বাসিন্দা, সমাজসেবী এবং 'কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স'-এর সদস্য সাজ্জাদ হোসেন৷

    সাজ্জাদের কথায়, '১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলে এই হুন্দুরমান গ্রাম ছিল পাকিস্তানের দখলে৷ ১৯৭১-এর যুদ্ধে ভারত এই গ্রাম দখল করে৷ সেই সময় থেকেই সীমান্তের ওপারে থাকা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গ্রাম গানগানি এবং এই হুন্দুরমান গ্রামের মানুষজন বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন৷ বড়জোর শ'চারেক লোকের বাস এই হুন্দুরমান গ্রামে। পাশ দিয়ে বয়ে চলা খরস্রোতা শিঙ্গো এবং সুরু নদীর জলে পড়ে প্রায়ই এ পারের লোকজনের দেহ সীমান্তের ওপারে চলে যায়৷ ওপারের লোকজন নদীতে ভেসে আসা দেহ উদ্ধার করে নিজেদের মতো করে শেষকৃত্য করেন৷ এই পরিস্থিতির বদল চান হুন্দুরমানের অধিবাসীরা৷ তাঁরা চাইছেন তাদের প্রিয়জনদের শেষকৃত্য ভারতের মাটিতে হোক৷ এই লক্ষ্যেই বিদেশ মন্ত্রককে প্রথমে চিঠি লেখা হবে৷ পরে আমরা দিল্লি গিয়ে বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টাও করব৷'

    ঘটনা হল, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের জটিল রসায়ন৷ পহেলগাম জঙ্গি হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের পরে দু'দেশের সম্পর্কে যে নতুন মোড় এসেছে, তার প্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রণরেখায় 'বডি হ্যান্ডওভার পয়েন্ট' তৈরির কাজ যে সহজ নয়, বুঝতে পারছেন কার্গিল–সহ আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা৷ এই কারণেই নিজেদের দাবিপূরণে অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে হুন্দুরমানের অধিবাসীদের৷ এই প্রসঙ্গে নিজেদের অসহায়তার কথা জানালেন মাস দুয়েক আগে শিঙ্গো নদীর জলে পড়ে প্রাণ হারানো সাত বছরের শিশু সন্তান জুলকারনাইন আলির বাবা মহম্মদ হোসেন৷ তাঁর কথায়, 'নদীর ধারে খেলতে খেলতে ওই নদীতেই পড়ে গিয়েছিল আমার ছেলে। তীব্র স্রোতে বাঁচা অসম্ভব। ওর দেহ সীমান্তের ওপারে উদ্ধার হয়৷ গানগানি গ্রামের লোকজনই ওকে কবর দিয়েছেন৷ আমাদের ফোন করে জানিয়েছেন, ছবিও পাঠিয়েছেন হোয়াটসঅ্যাপে৷ ফুলের মতো ছেলেটাকে শেষ দেখা দেখতেও পেলাম না, এই আক্ষেপ যাবে না কোনও দিন৷'

  • Link to this news (এই সময়)