• বসিরহাট থেকে মালদা, সীমান্তে বেড়া বসাতে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি দেবে রাজ্য
    আজ তক | ১২ মে ২০২৬
  • বাংলার নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পরই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে তৎপর হয়ে উঠল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে শুরু হয়ে যায় জমি জরিপ ও মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা।

    সরকারের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আজ থেকেই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই তা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।'

    ঘোষণার পরপরই বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকানন্দা ভৌমিক বিএসএফ-এর আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে স্বরূপনগর থেকে হিঙ্গলগঞ্জের শামশেরনগর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন করেন। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অংশের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার ইছামতী নদীঘেঁষা জলসীমান্ত এবং বাকি ৫০ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত। এখনও প্রায় ২০ কিলোমিটার স্থলসীমান্তে কোনও বেড়া নেই।

    বিএসএফ-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নদীপথের দুর্গম অঞ্চল ছাড়াও যে অংশে এখনও বেড়া নেই, সেগুলি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই সেখানে কড়া নজরদারি চালানো হয়। বসিরহাট পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্তের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখে প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত জমি হস্তান্তরের জন্য রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

    একইসঙ্গে নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা-সহ অন্যান্য সীমান্তবর্তী জেলাতেও সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসন বা বিএসএফ-এর তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মোট সীমান্তের দৈর্ঘ্য ২,২১৬.৭ কিলোমিটার।

    বিজেপির অভিযোগ, আগের তৃণমূল সরকার জমি হস্তান্তরে দেরি করায় সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, সীমান্তবাসীর জীবিকা ও জমি সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়েই এই ধরনের প্রকল্প এগোনো উচিত ছিল।

    এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন প্রজন্মের ‘স্মার্ট ফেন্সিং’ বা আধুনিক বেড়া তৈরির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। পুরনো কাঁটাতারের বদলে বসানো হবে ১২ ফুট উঁচু বিশেষ ইস্পাতের জাল, যা সহজে কাটা বা টপকে যাওয়া সম্ভব নয়। এই নতুন ব্যবস্থায় নজরদারি ক্যামেরা, সেন্সর এবং অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

    বিএসএফ কর্তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় এই আধুনিক স্মার্ট বেড়া তৈরি হলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোখা অনেকটাই সহজ হবে।

     
  • Link to this news (আজ তক)