• সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিল! রাজস্থানে নিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ, সরব রাহুল
    প্রতিদিন | ১২ মে ২০২৬
  • ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট ইউজির প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রাজস্থানে। দাবি করা হচ্ছে, সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। এই ঘটনায় মোদি সরকারকে তুলোধোনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর তোপ, ‘নিট এখন নিলামে উঠেছে। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।’

    গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে সমস্যা বাঁধে রাজস্থানে। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল বিশাল বনশন বলেন, ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলে গিয়েছে উত্তরের অপশনও। অন্য একটি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রের ২৮১টি প্রশ্নের মধ্যে ১৩৫টি প্রশ্ন আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। এই ঘটনা নিছক কাকতালিয় নাকি এর নেপথ্যে বিরাট কোনও চক্র কাজ করছে তা খতিয়ে দেখছে রাজস্থান পুলিশ।

    যদিও এনটিএ-র দাবি, ‘জিপিএস ট্র্যাক করা গাড়িতে করে পরীক্ষার হলে পাঠানো হয়েছিল প্রশ্নপত্র। প্রতিটি প্রশ্নে ছিল বিশেষ ওয়াটার মার্ক। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতেও ছিল ব্যাপক কড়াকড়ি। সিসি ক্যামেরা নজরদারি, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং জ্যামার ব্যবহার করা হয়েছিল। কোনও সমস্যা ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও ৭ মে সন্ধ্যায় কিছু সমস্যার তথ্য আমাদের কাছে আসে। যদি প্রশ্ন ফাঁসের মতো কোনও ঘটনা ঘটে থাকে তবে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।’

    গোটা ঘটনায় কেন্দ্রকে তুলোধোনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘নিট ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর শুনেছি। এটা এখন আর কোনও পরীক্ষা নয়, নিট এখন নিলামে উঠেছে। পরীক্ষার ৪২ ঘণ্টা আগেই হোয়াটসঅ্যাপে অনেক প্রশ্ন বিক্রি হচ্ছিল। ২২ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া সারা বছর রাত জেগে পড়াশোনা করেছে, আর এক রাতেই তাদের ভবিষ্যৎ প্রকাশ্যে বাজারে নিলামে তুলে দেওয়া হলো’। পাশাপাশি তিনি লেখেন, ‘এটা প্রথমবার নয়। ১০ বছরে ৮৯ বার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ৪৮ বার পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই একই প্রতিশ্রুতি, আর তারপর সেই একই নীরবতা।’ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। হাজার হাজার টাকায় প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগ ওঠে দেশের নানা প্রান্তে। এবারও তেমন কোনও ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)