দায়িত্ব নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়েছেন, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়ানো হচ্ছে ৫ বছর। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে চাকরিপ্রার্থীরা খুবই উপকৃত হলেন। কিন্তু বাস্তব ভেবে দেখলে ৪০-৪৫ বয়সিদের ক’জন আর মন দিয়ে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? এই বয়সে বেশিরভাগই সংসার ধর্ম পালনে ব্যস্ত। সরকারি চাকরির প্রত্যাশায় না থেকে অন্য কোনও কাজে ঢুকে পড়েছেন। এখন তাঁরা পরীক্ষা দিলেও চর্চার অনভ্যাসে চাকরি পাবেন না। গৃহবধূরা তাও চেষ্টা করতে পারেন। তবু নতুন সরকারের এই ঘোষণায় খুশি চাকরিপ্রার্থীরা।
রাজ্যে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আক্ষেপ ধরা পড়ল হুগলির উত্তরপাড়ার অচিন্ত্য মল্লিকের গলায়। ২০১৬ সালের গ্রুপ সি-ডি পরীক্ষার প্যানেল বাতিলের পর থেকেই চাকরিহারা। গত ১৩ মাস ধরে পাচ্ছেন না বেতন। ২০২৪ সালে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে যোগ্য অশিক্ষক কর্মী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন অচিন্ত্যবাবু। সুপ্রিম কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। তারপরও অচিন্ত্যর মতো ৩৩৯৪ জন যোগ্য শিক্ষাকর্মীকে চাকরিতে বহাল করেনি পূর্বতন সরকার। বর্তমানে একটি মুদির দোকানে কাজ করছেন ৩৯ বছর বয়সি এই চাকরিহারা। গ্রুপ সি-ডি ঐক্যমঞ্চের অমিত মণ্ডলের দাবি, “আমরা যোগ্য প্রমাণিত। নতুন করে আর চাকরির পরীক্ষা দেব না। সাত বছর ধরে যে চাকরি করেছি সেই চাকরিতেই নতুন সরকার আমাদের বহাল করুক।”
রাজ্য সরকারের বেশিরভাগ চাকরিতে এতদিন সাধারণ প্রার্থীরা ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারতেন। তফসিলি বা অন্যান্য সংরক্ষণভুক্ত জাতির জন্য বয়সসীমা ছিল ৪৫। সোমবার বাংলার নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বয়সসীমা আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করতেই খুশির হাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। ২০১৫ সালের পরে পশ্চিমবঙ্গে কোনও নিয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ। বয়সসীমা বৃদ্ধিতে খুশি মেদিনীপুরের বছর বিয়াল্লিশের শর্বরী মণ্ডল। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে তাঁর পুত্র। বললেন, “রাজ্য সরকারের চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় কত বছর কেটে গেল। এখন আর আলাদা করে চর্চা নেই। তবে ছেলেকে পড়ানোর পাশাপাশি টিউশন পড়াই। আবার প্রস্তুতি নিতে ইচ্ছা করছে কিন্তু চাকরি পেতে হলে দিনে ন’-দশ ঘণ্টা পড়তেই হবে। সংসার সামলে অত সময় কী করে পাব?”