বঙ্গ ব্রিগেডকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ফ্রি হ্যান্ড দিচ্ছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব
বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে দিল্লি থেকেই সরকার চালায় বিজেপি। বাংলায় ক্ষমতায় এলে রাজ্যেও একই পরিস্থিতি তৈরি হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলি। প্রথমবার রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। এমতাবস্থায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে দিল্লি থেকেই সরকার চালানোর ‘মিথ’ বাংলায় পুরোপুরি ভেঙে দিতে সচেষ্ট হয়েছে বিজেপি। জানা যাচ্ছে, বাংলার বর্তমান শাসক দল বঙ্গ ব্রিগেডকে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একপ্রকার ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। স্পষ্টই বলা হয়েছে, সব বিষয়ে দিল্লির দিকে তাকিয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।
এমনকি রাজ্য থেকে বিজেপি সরকারের নব্য নেতামন্ত্রীদেরও ঘন ঘন দিল্লি আসার ব্যাপারেও রাশ টেনে দেওয়া হতে পারে। বিজেপি সূত্রেই এখবর জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিজেপি সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারে কিংবা তার আগে-পরেও গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ করা হয়েছে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। যেমন, বহিরাগত তত্ত্ব। অবাঙালিদের পার্টি। কিংবা মাছ-ভাত ইস্যু। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এসব নিয়ে লাগাতার প্রচার চালানো হলেও বাংলার মানুষের মধ্যে যে কোনো প্রভাব পড়েনি, তা নির্বাচনি ফলাফলেই স্পষ্ট। কিন্তু তারপরেও সামান্য কিছু মানুষও যদি আতঙ্কে থাকেন, তাহলে তা দূর করা জরুরি। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে বঙ্গ নেতৃত্বকে নিজের মতো করে মাছ-ভাত খাওয়ানোর উৎসব পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির অন্দরের ব্যাখ্যা, এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দিল্লি থেকেই বাংলার সরকার চলবে, এমন ‘মিথ’ ভেঙে দেওয়া। সেইমতোই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। দলীয় ‘প্রোটোকল’ মেনে শুভেন্দুবাবুকে অবশ্য একবার দিল্লিতে আসতেই হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য। যেমন অন্যান্য রাজ্যের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীরা করেছেন ইতিপূর্বে। তবে তিনি কবে দিল্লিতে আসবেন, তার চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও পর্যন্ত স্থির হয়নি বলেই খবর।
কোনো সংশয় তৈরি হলে অবশ্যই দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করুন। কিন্তু সব বিষয়ে দিল্লির পার্টির দিকে তাকিয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। নিজেদের মতো করেই সিদ্ধান্ত নিন। তাতে কেন্দ্রীয় পার্টি হস্তক্ষেপ করবে না। বিজেপির রাজ্য কমিটিকে এহেন বার্তাই দিতে চলেছে দলের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। -ফাইল চিত্র