জয় শ্রীরামের পতাকা লাগিয়ে আত্রেয়ী থেকে বালি পাচারের চেষ্টা, অভিযানে আটক ট্রাক্টর
বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: রাজ্যে সরকার বদলের পরেই আত্রেয়ী নদী থেকে বালি চুরিতে কড়াকড়ি শুরু করেছে প্রশাসন। বালুরঘাটে আত্রেয়ী নদীর ঘাটগুলিতে পুলিশ এবং প্রশাসনের সরাসরি নজরদারি শুরু হয়েছে। কিন্তু তারপরেও দিনের বেলাতেই প্রত্যন্ত জায়গাগুলি থেকে অবাধে বালি পাচার করছে বালির মাফিয়ারা। সরকার বদলের পর বালি ট্রাক্টরে কেউ বা আবার জয় শ্রী রাম লেখা পতাকা লাগিয়ে বালি পাচারের চেষ্টা করছে। কোথাও আবার ট্রাক্টরগুলিতে বিজেপির পতাকা লাগানো হচ্ছে। সরকার বদলের পর এভাবেই ভোল বদলের চেষ্টা করছে বালি মাফিয়ারা। কিন্তু প্রশাসনের অভিযানে ধরা পড়ছে সেই ট্রাক্টরগুলি। এবারে বাইক নিয়ে অভিযানে নামল বালুরঘাট ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। সোমবার অভিযানের নেতৃত্ব দেন বালুরঘাটের বিএলআরও। অভিযানে একটি ট্রাক্টর আটক করা হয়েছে।
বালুরঘাট ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক রণেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, গোটা ব্লক জুড়েই অভিযান চলছে। এদিন বাইক নিয়ে অভিযান চলেছে। ওই অভিযানে একটি ট্রাক্টর আটক করা হয়েছে। নিয়মিত এই অভিযান চলবে।
সূত্রের খবর, ভোটের কারণে ব্যস্ত ছিলেন ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেদারে বালি পাচার চলে। তবে সরকার বদলের পরেই দু’দিন বালি পাচার বন্ধ ছিল। এরপর ফের বালি পাচার শুরু করে দিয়েছে বালি মাফিয়ারা। বালুরঘাট ব্লকের পতিরাম থেকে শুরু করে পাগলিগঞ্জ, রাজাপুর, ফুলঘড়া, কালিকাপুর, চক হরিনা, ফতেপুর সব জায়গা থেকেই রাতের অন্ধকারে ট্রাক্টরে বালি পাচার চলছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশকিছু বালি পাচার চক্র সরকার বদলের পর চুপচাপ থাকলেও ফের কারবার শুরু করে দিয়েছে। বিষয়টি জানতেই প্রশাসনের কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। ঘাটগুলিতে পুলিশ এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ট্রাক্টর নামলেই পুলিশ এবং প্রশাসনের অভিযান শুরু হচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত জায়গা থেকে বালি তোলার চেষ্টা চলছে। যে পথ দিয়ে ভূমিদপ্তরের গাড়ি আসে সেই পথে বালি মাফিয়াদের ইনফর্মার রাখা থাকে। তাই প্রশাসন অভিযানে এলে আগেই পালিয়ে যায় ট্রাক্টরগুলি। তাই সোমবার বাইক নিয়ে অভিযান চালায় ভূমিদপ্তর। এই অভিযানে একটি ট্রাক্টর ধরা পড়েছে, যার সামনে জয় শ্রীরাম লেখা পতাকা রয়েছে।
এনিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপী সরকার। তিনি বলেন, এতদিন যা করেছে, সেটা আর হবেনা। স্বচ্ছভাবে প্রশাসন চলবে। কেউ যদি মনে করে জয় শ্রীরামের এবং বিজেপির পতাকা লাগিয়ে বেআইনি কাজ করবে করবে, সেটা হবে না। সেই দিন আর নেই। পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করব তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে যে নদীগুলি রয়েছে, সেই নদীগুলিতে কম বেশি বালি পাচার হয়। একসময় ওই নদীর ঘাটগুলিকে লিজ দেওয়া হত। ফলে নির্দিষ্ট মালিকরাই ট্রাক্টর নামিয়ে বালি তুলে নিয়ে যেতেন। কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে সেই লিজের সময়সীমা শেষ হয়েছে। সেই ঘাটগুলি আর নতুন করে লিজ দেওয়া হয়নি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারিভাবে লিজ দেওয়া হলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে না। তখন বৈধভাবেই বালি তুলতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।