• খোঁজ নেই কৃষ্ণর, তল্লাশি পুলিশের, গ্রাম পঞ্চায়েতে গরহাজির অনুগামী প্রধান
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বিজেপি কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত জলপাইগুড়ির পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস এখনও বেপাত্তা। তাঁর খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। নেপালে লুকিয়ে রয়েছেন কৃষ্ণ, এমনটাই খবর পুলিশের কাছে। কিন্তু তিনি ঠিক নেপালের কোথায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন, তা জানতে গোয়েন্দা মারফত খবর সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। সোমবার জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেন, কৃষ্ণ দাসের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তিনি নেপালে রয়েছেন বলে আমাদের কাছে খবর। গোয়েন্দা সূত্রে আমরা তাঁর অবস্থান জানার চেষ্টা করছি। 

    এদিকে, ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন কৃষ্ণর অনুগামীরাও। তৃণমূলের অন্দরে সমান্তরাল সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন দলের এসসি ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস। জলপাইগুড়ি সদর ও রাজগঞ্জ ব্লকের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে দলের অঞ্চল, ব্লক সভাপতিদের অনেকেই তাঁর অনুগামী ছিলেন। কিন্তু কৃষ্ণর বিরুদ্ধে মামলা হতেই ঝামেলায় জড়ানোর আশঙ্কায় তাঁদের বেশিরভাগই বেপাত্তা এখন। কেউ কেউ এলাকাতে থাকলেও প্রকাশ্যে আসছেন না। এড়িয়ে যেতে চাইছেন কৃষ্ণ প্রসঙ্গ। 

    কৃষ্ণ অনুগামী বলে পরিচিত জলপাইগুড়ির অরবিন্দ পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান রাজেশ মণ্ডলের গত কয়েকদিন ধরে দেখা মিলছে না। বিজেপি তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে তিনি পঞ্চায়েতে যাননি। এদিন অবশ্য বিজেপি কর্মীরা অরবিন্দ পঞ্চায়েতের তালা খুলে দেন। উপপ্রধান টিকা রাউতিয়া বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেই পঞ্চায়েতে পা রাখেন। গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা তাঁকে মিষ্টিমুখ করান। কিন্তু পঞ্চায়েতে গরহাজির ছিলেন প্রধান। এনিয়ে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। এদিন জলপাইগুড়িতে ফিরছি। তাছাড়া তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। ফলে কীভাবে অফিসে যাব? মঙ্গলবার থেকে তিনি পঞ্চায়েতে যাবেন কি না তা নিয়ে কৃষ্ণ ঘনিষ্ঠ ওই প্রধানের মন্তব্য, পরিস্থিতি ঠিক থাকলে যাব। না হলে যাব না। তবে কৃষ্ণ দাস কোথায় আছেন, তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে রাজেশের দাবি, আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। বলতে পারব না। নির্বাচনি প্রচারে নজর টানতে ৮৬ বছরের মা ইরারানি দাসকে পুজো করেছিলেন কৃষ্ণ। কিন্তু থানায় মামলা দায়ের হতেই গ্রেপ্তারি এড়াতে সেই বৃদ্ধা মাকে বাড়িতে একা ফেলে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। এসপি জানিয়েছেন, কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য বারোপেটিয়া এলাকায় পুলিশ রয়েছে। কৃষ্ণর বিরুদ্ধে পুলিশ সক্রিয় হতেই স্থানীয় বাসিন্দারাও মুখ খুলতে শুরু করেছেন। রংধামালি বাজারে একরাশ ভয় নিয়ে ব্যবসা করতে হত বলে দাবি দোকানদারদের।  
  • Link to this news (বর্তমান)