• কোচবিহারের ছেলের হাতেই উত্তরের দায়িত্ব, রবি ঘোষ, উদয়নের পর এবার নিশীথ
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের ‘রাশ’ থাকছে কোচবিহার জেলার হাতেই। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, উদয়ন গুহর পর এবার ওই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হলেন আর এক ‘ভূমিপুত্র’ নিশীথ প্রামাণিক। একইসঙ্গে তাঁর হাতে থাকছে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরও। সোমবার দায়িত্ব নিয়েই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আমজনতাকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন তিনি। কোচবিহার থেকে মালদহ পর্যন্ত ৫৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৪০টিই গিয়েছে পদ্মের ঝুলিতে। জনগণের বিপুল সমর্থন পাওয়ার সঙ্গে স্বভাবতই দায়িত্বও বাড়ে। তাই, কাঁধে যে গুরুদায়িত্ব পড়েছে, তা মেনে নিয়েছেন নিশীথ। 

    উত্তরবঙ্গের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এজন্যই ১৫ বছর আগে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর তৈরি করে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। দপ্তরের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন গৌতম দেব। এরপর ২০১৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ও ২০২১ সালে উদয়নকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দু’জনেই কোচবিহার জেলার বাসিন্দা। এবার ওই দপ্তরের দায়িত্বে নিশীথ। কোচবিহার জেলার ভেটাগুড়ির বাসিন্দা তিনি। এবার জয়ী হয়েছেন মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। 

    শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে মিনি সচিবালয় ‘উত্তরকন্যায়’ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অফিস। শীঘ্রই সেখানে নতুন মন্ত্রীর পা পড়তে পারে বলে খবর। শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চে শপথ নিয়েছিলেন নিশীথ। সোমবার দপ্তর বণ্টন হয়। গুরুত্বপূর্ণ দুই দপ্তরের দায়িত্ব হাতে পেয়ে স্বভাবতই আপ্লুত নিশীথ। বলেন, কোচবিহার থেকে মালদহ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের আট জেলায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কিছুই করা হয়নি। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব মানুষের প্রত্যাশা পূরণের।   

    মন্ত্রীত্ব অবশ্য নিশীথের কাছে নতুন নয়। ২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েই লোকসভা ভোটে বাজিমাত করেছিলেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। একুশের নির্বাচনে দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে উদয়নকে পরাজিত করেন। তবে, সেবার তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ফিরে যান। এবার তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। কারণ, প্রশাসন চালানোর অভিজ্ঞতার নিরিখে নিশীথ উত্তরবঙ্গে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের অনেকের থেকে এগিয়ে। 

    স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, এতদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে কিছু কাজ হলেওঙ বারবার রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে। রাস্তা, কালভার্ট, শ্মশান, সেতু, স্কুল ভবন নির্মাণ কাজের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এবার চা বাগান থেকে বনাঞ্চল, পাহাড় থেকে সমতল, রাজনগর কোচবিহার থেকে গৌড়ভূমি মালদহ ও দুই দিনাজপুর-সার্বিক উন্নয়ন সমান গুরুত্ব পাবে, সেই প্রত্যাশাই করছেন সকলে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের পাশাপাশি তাঁকে দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন কোচবিহারে স্পোর্টস অ্যাকাডেমি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার ডবল ইঞ্জিনের সরকারে ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলে এদিন জানিয়েছেন মন্ত্রী।
  • Link to this news (বর্তমান)