• নলহাটিতে বিজেপির কার্যালয়ের উদ্বোধন, বসল ‘অভিযোগ বাক্স’
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এতদিন তৃণমূলের বাধায় সম্ভব হয়নি, রাজ্যে ক্ষমতা পেতেই নলহাটির শীতলগ্রামে নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করল বিজেপি। সোমবার এলাকায় শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিল গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনকালে যে ‘জনবিচ্ছিন্নতা’ বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিজেপি শুরু থেকেই নিজেদের একটি স্বচ্ছ ইমেজ তৈরি করতে কার্যালয়ের বাইরে বসানো হল ‘অভিযোগ বাক্স’। উপস্থিত ছিলেন, দলের জেলা সম্পাদক মলয় অধিকারী, এসসি মোর্চার জেলা সভাপতি ঝলক মণ্ডল ও অঞ্চল প্রমুখ দীনবন্ধু মণ্ডল, শীতল গ্রামের বিজেপি নেতা দেবাশিস সিনহা প্রমুখ। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপির এই সর্তকতা এবং জনমুখী উদ্যোগ বেশ কৌতুহল জাগিয়েছে। শীতলগ্রাম হাসন বিধানসভার অর্ন্তগত। তৃণমূল জমানায় এখানে পার্টি অফিস খোলা দূরঅস্ত, দলের কাজকর্ম পর্যন্ত চালাতে পারত না বিজেপি। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের কাজল শেখ জিতলেও রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় আশাপূরণ হয়েছে তাঁদের। এদিই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। তাতেই ভয় ‘আউট’ ভরসা ‘ইন’ হওয়ায় এদিন শীতলগ্রামে দলীয় কার্যালয় খোলার পাশাপাশি বিজয় উৎসবে মেতে ওঠেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। গ্রামের মানুষ থেকে পথচলতি মানুষদের জন্য কার্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি, লাড্ডু ও চায়ের স্টল করা হয়। বক্স বাজিয়ে একে অপরকে গেরুয়া আবির মাখিয়ে উৎসব পালন হয়। বিজেপি নেতাদের মতে, বড়সড় জাঁকজমক করার চেয়ে জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়াকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    বিজেপি নেতাদের মতে, সাধারণ মানুষ যাতে কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি দলের কাছে তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারেন তার জন্যই অভিযোগ বাক্স বসানো হয়েছে। এটি দলের ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে। অনেক সময় ক্ষমতার দম্ভে নীচুতলার কর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন। অভিযোগ বাক্সের মাধ্যমে সেই সব বিষয়েও ওপরতলার নেতারা নজর রাখতে পারবেন।

    মলয় অধিকারী বলেন, দলের অন্দরে কোনো অনিয়ম বা কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা জানানোর একটি আনুষ্ঠানিক মাধ্যম তৈরি হওয়ার দরকার আছে। ক্ষোভ ভেতরে জমতে থাকলে তা পরে বড় ধরনের বিদ্রোহ বা দলত্যাগের কারণ হতে পারে। সময়মতো তা জানতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। দলীয় কর্মীদের বা সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ এবং অভিযোগের সরাসরি নিরসন করতেই ‘অভিযোগ বাক্স’ লাগানো হল। সেক্ষেত্রে অভিযোগকারীর নাম গোপন রাখা হবে। 

    রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নতুন সরকার যখন গঠিত হয়, তখন মানুষের প্রত্যাশার পারদ থাকে আকাশচুম্বী। বিজেপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী, এই “অভিযোগ বাক্স” যদি সত্যিই কার্যকর হয় এবং মানুষের সমস্যার সমাধান হয়, তবে তা রাজ্যের রাজনীতিতে একটি নতুন সংস্কৃতি তৈরি করবে। এত যেমন দলের ভাবমূর্তি উন্নত হবে তেমনি দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের পদ্ধতি বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
  • Link to this news (বর্তমান)