শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: তৃণমূল হারতেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে চেনা ছবি উধাও। সোমবার জেলা পরিষদে সভাধিপতি, কর্মাধ্যক্ষদের দেখা যায়নি। অফিসার, কর্মী এবং ইঞ্জিনিয়াররা এসেছিলেন। সভাধিপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অনেকেই তাঁর চেম্বারের সামনে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু, দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও তাঁরা দেখা পাননি। শেষমেশ ফিরে যান। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর সোমবার থেকে সরকারি অফিস পুরোদমে শুরু হয়েছে। কিন্তু, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে ছবিটা ভিন্ন। জেলায় তৃণমূলের শোচনীয় হার এবং রাজ্যে পালাবদলের পর সভাধিপতি এবং কর্মাধ্যক্ষরা অফিসে আসছেন না। এই অবস্থায় বেশকিছু কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে বলে খবর।
২০২৩ সালে ৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বোর্ড গঠিত হয়। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ড গঠনের তিন বছরের মধ্যে তা ভাঙা যাবে না। বিধানসভায় নতুন বিল পাশ না করানো পর্যন্ত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্তমান বোর্ড ভাঙার সুযোগ নেই। জেলা পরিষদে মোট সদস্য সংখ্যা ৭০জন। তারমধ্যে তৃণমূল ৫৬ এবং বিজেপি ১৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস আড়াই বছর নির্বিঘ্নে বোর্ড চালিয়েছে। যদিও বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাওয়ার পর জেলা পরিষদে জোড়াফুলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটা বড় অংশ দোদুল্যমান অবস্থায় পড়েছে। আগামী দিনে তাঁরা কী করবেন, এনিয়ে দোলাচলে। বেশ কয়েকজন গোপনে মিটিংও করেছেন। সেখানে একাংশ ইস্তফা দেওয়ার পক্ষে মত দেন। অপরপক্ষ, গেরুয়া দলে যোগ দেওয়ার পক্ষে। এরবাইরে, বিভিন্ন ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জেতা জেলা পরিষদ সদস্যরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সুযোগমতো তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন।
গত ৪মে বিধানসভা ভোটে তৃণমূল পরাজিত হওয়ার পর পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় জেলা পরিষদের ইজারা দেওয়া খেয়াঘাটের হাতবদল হয়ে গিয়েছে। যেমন, বোগা-রসুলপুর খেয়াঘাটের লিজপ্রাপক হলেন জনকা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি পরীক্ষিত মণ্ডল। ৫৫লক্ষ টাকা বার্ষিক চুক্তিতে ওই ঘাট মোট ১৭জন পার্টনারশিপে চালাতেন। ৪তারিখ বিকালে বিজেপির লোকজন সেইসব ইজারাদারদের হটিয়ে নিজেরা ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। সোমবার ওই ঘাটের কয়েকজন ইজারাদার জেলা পরিষদে এসেছিলেন। কিন্তু, সভাধিপতির সাক্ষাৎ পাননি। এভাবে নানা সমস্যায় পড়া মানুষজন সভাধিপতির কাছে এলেও সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে যান। পরীক্ষিৎ বলেন, ৪মে থেকে বোগা-রসুলপুর ফেরিঘাট বিজেপির লোকজন নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বিষয়টি সভাধিপতির নজরে আনা হয়েছে। জেলা পরিষদের রাস্তা, নিকাশি, আলো সহ নানা কাজ করে অনেক ঠিকাদারের কয়েক কোটি টাকা বকেয়া। সরকার বদলের পর ঠিকাদারদের একাংশের মধ্যে এনিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, পূর্বতন সরকারের স্কিমের টাকা বর্তমান সরকার পেমেন্ট করবে তো? এই আশঙ্কায় সোমবার বেশ কয়েকজন ঠিকাদারও সভাধিপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য এসেছিলেন। যদিও অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) মানস মণ্ডল বলেন, ঠিকাদারদের বকেয়া পেমেন্ট নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমরা বরাদ্দ টাকা অনুযায়ী কাজ করেছি। সুতরাং এনিয়ে সমস্যা হবে না। জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক বলেন, আমরা অফিসে যাব। না যাওয়ার কোনো কারণ নেই। রাজনৈতিক পালাবদলের পর কিছু জায়গায় ফেরিঘাট নিয়ে সমস্যা হয়েছে। সেটা প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।