• বিজেপির জয়ের আনন্দে তিন বিঘা জলাশয়ের পদ্ম কর্মীদের বিলিয়ে দিলেন নবদ্বীপের চাষি নিখিল রায়
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • সমীর সাহা, নবদ্বীপ: বিজেপিকে ভালোবেসে তিন বিঘা আয়তনের জলাশয়ে করেছিলেন পদ্মচাষ। তৃণমূলকে পর্যুদস্ত করে বিজেপি বাংলার মসনদ দখল করায় আনন্দে আত্মহারা সত্তরোর্ধ্ব নিখিল রায় নিজের সেই জলাশয়ের সমস্ত পদ্ম তুলে বিলিয়ে দিলেন দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। 

    নিজের জলাশয়ের পদ্মফুলের মালায় বরণ করলেন বিজেপির জয়ী প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামীকেও। নিখিলবাবু চান, নতুন বিজেপি সরকার আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল বদল ঘটাক। মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একাধিক পরিকল্পনা যেন গ্রহণ করে। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁর আর্জি, রাজ্যের বেকার সমস্যা মেটাতে কর্মসংস্থানের উপর জোর দেওয়া হোক। এইরকম এক দলভক্ত কর্মীকে পেয়ে খুশি দলের অন্যান্য কর্মীরাও।

    সোমবার বিধায়ক  শ্রুতিশেখর বলেন, উনি আমাদের খুব ভালো কর্মী। পদ্ম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ওঁদের মতো কর্মীদের জন্যই আমাদের এই সাফল্য। নবদ্বীপ ব্লকের চরমাজদিয়া-চরবহ্মনগর পঞ্চায়েতের চরব্রহ্মনগরের দক্ষিণপাড়ায় বাড়ি পদ্মচাষি নিখিল রায়ের। তাঁর বাবা কিরণশঙ্কর রায় বিজেপি করতেন। সেই সময় বাংলায় হাতে গোনা কিছু লোক ভালোবেসে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন কিরণশঙ্কর। নিখিলবাবু কোনোদিনই ভাবতে পারেননি বিজেপি এইরকম বিপুল ভোটে জিতে রাজ্যের ক্ষমতায় আসবে। বাবাকে দেখেই বিজেপির প্রতি ভালোবাসা নিখিলবাবুর। 

    সেই ভালোবাসা থেকেই পনের বছর আগে বাড়ির সংলগ্ন একটি জলাশয়ে কয়েকটি পদ্ম চারা রোপণ করেন। ক্রমে জলাশয়ের তিন বিঘে ভরে গিয়েছে পদ্মে। এই পদ্ম চাষই তাঁর জীবিকা। কাকতালীয়ভাবে হলেও নিখিলবাবু পদ্মচাষে বাংলার রাজনীতিতেও পদ্মচাষ হয়েছে বলে তিনি গর্ব করেন। সে কারণে দলের মিটিং মিছিল এলে তিনি অনায়াসে দলের কর্মীদের হাতে পদ্ম তুলে দিচ্ছেন। রবিবার এলাকায় বিজয় মিছিলে যত দলীয় কর্মীদের হাতে পদ্ম দেখা গিয়েছিল, সেগুলি সবই নিখিলবাবুর জলাশয়ের। তিনি বলেন, বিজেপির প্রতি ভালোবাসা থেকে পদ্ম চাষ করেছিলাম। এখন সেই পদ্মচাষই আজকে আমার রুটিরুজি। সে কারণেই আমি খুশি হয়ে বিনা পয়সায় দলীয় কর্মীদের হাতে পদ্ম তুলে দিচ্ছি।

    শুধু নবদ্বীপ নয়, নদীয়ার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এবং পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা এসে এখান থেকে পদ্ম কিনে নিয়ে যান। বছরে প্রায় দু› লক্ষের বেশি পদ্মফুল ফোটে নিখিলবাবুর জলাশয়ে। পুত্রবধূ বীনা রায় দাস জানান, সারা বছর পুজো পার্বণের জন্য এখান থেকে পদ্ম নিয়ে যান অনেকেই। আমার বিয়ে হয়েছে ১১ বছর। তখন থেকেই দেখে আসছি আমার শ্বশুরমশাই নিখিল রায় এবং স্বামী আনন্দ রায়, ভাসুর নন্দদুলাল রায় সকলেই পদ্মচাষের সঙ্গে যুক্ত। এখন দলের কর্মীদের ফুল দিতে হচ্ছে। আমরা তো বিজেপি করি। আমাদের গায়ে লাগে না। এখন পদ্ম পাঁচ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আমরা আনন্দের জন্য বিলিয়ে দিই।
  • Link to this news (বর্তমান)