নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মধ্যমগ্রামে মাথা তুলছে একের পর এক বহুতল। কলকাতার কাছাকাছি হওয়ায় চাহিদাও রয়েছে। কিন্তু টাকা মেটালেও মেলেনি ফ্ল্যাট। জল গড়াল সুপ্রিম কোর্ট এবং সিবিআইয়ের দোরগোড়ায়।
ফ্ল্যাট বুকিং করেছিলেন। কিস্তিতে টাকা মিটিয়েছিলেন। অথচ বছরের পর বছর কেটে গেলেও মেলেনি ফ্ল্যাট। অভিযোগ, আশ্বাস মিললেও শেষ পর্যন্ত হাতে এসেছে শুধু অপেক্ষা। সেই অভিযোগে মধ্যমগ্রামের এক বহুতল আবাসনের ডেভেলপারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন চারজন গ্রাহক। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার গিয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। আর সেই তদন্তের সূত্রে সোমবার দিল্লি থেকে চার সদস্যের একটি সিবিআই প্রতিনিধি দল পৌঁছয় মধ্যমগ্রাম পুরসভায়। দুপুরে কয়েকঘণ্টা ধরে চলে নথি খতিয়ে দেখা, তথ্য সংগ্রহ এবং আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা। তদন্তকারীরা কথা বলেন পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষের সঙ্গেও। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুতল নির্মাণের অনুমোদিত নকশা, জমির দলিল, পর্চা, ট্যাক্স সংক্রান্ত নথি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪৪ কাঠা জমির উপর তৈরি হয়েছে এই বহুতল আবাসন। গত কয়েক বছরে মধ্যমগ্রামে আবাসনের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। বহু ক্রেতা ফ্ল্যাট বুকিং করেন।
অভিযোগ, নির্ধারিত কিস্তিতে টাকা নেওয়ার পরেও ডেভেলপার ক্রেতাদের হাতে ফ্ল্যাটের দখল তুলে দেননি। ঘটনায় ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, এবারের নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশে তৃণমূল বড়ো ধাক্কা খেলেও মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা। নতুন সরকার গঠনের আবহে এদিন হঠাৎ পুরসভায় সিবিআইয়ের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহর জুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়েছে। একটি আবাসনের কয়েকজন গ্রাহক সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। আর সেই মামলার তদন্তে সিবিআই এসেছিল। ওঁরা যে নথি চেয়েছেন, সব দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা সন্তুষ্ট।