• এসসি, এসটি ও জন্ম-মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্র রুখতে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্নীতি ইস্যুতে, প্রথম বৈঠকেই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর পরিষ্কার বার্তা, ‘আমার দুর্নীতিমুক্ত সরকার চাই।’ একইসঙ্গে, গত ১৫ বছরে প্রশাসনিক স্তরে সংঘটিত সমস্ত অনিয়মেরও বিচার হবে বলে পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। সেক্ষেত্রে পূর্বতন জমানায় ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করার বিরুদ্ধেও উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। এদিন অধিকাংশ দপ্তরের সচিবদের নিয়ে বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেক্ষেত্রে তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) শংসাপত্র, এমনকি জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র দুর্নীতিতে দোষীদেরও শাস্তির কথা সাফ জানানো হয়েছে। 

    এছাড়া রাজ্যের আর্থিক আনুকূল্যে পরিচালিত সমস্ত বোর্ডও এদিন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে অবসরের পর পুনর্বহাল হওয়া আধিকারিকদের কর্মজীবন থেকে পাকাপাকিভাবে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এই সংখ্যাটি কমবেশি ৫০০! এদিন বিধায়কদের নিয়ে নবান্ন সভাঘরের বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন জেলাশাসকরা। সেখানে আঞ্চলিক বিষয় ছাড়া জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করতে বিধায়কদের নিষেধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে  নির্বাচনের সময় থমকে থাকা সমস্ত কাজে গতি আনার জন্য। এই ব্যাপারে নব নির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে চালু করারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে কয়লা পাচার এবং বেআইনি বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকদের। আবার সরকারি জমি দখল এড়াতেও এখন থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    আবাস যোজনার ভুয়ো উপভোক্তাদের খুঁজে বার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ঘাটন করতে হবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মূল। এছাড়া করোনাকালে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটা নিয়েও দুর্নীতি হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। নতুন সরকার সবগুলিরই নিরপেক্ষ তদন্ত করবে বলে এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে এই আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি—আধিকারিকরা এবার যথাবিহিত সম্মানের সঙ্গেই নিজ নিজ সরকারি কাজ করতে পারবেন। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, ‘নাম ধরে তুমি করে ডাকার সংস্কৃতিতে আমি বিশ্বাসী নই। অফিসারদের প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েই সরকার চলবে।’ 

    সেক্ষেত্রে প্রথম দিনেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, কারো কিছু বলার বা পরামর্শ দেওয়ার থাকলে, আমলারা নিঃসংকোচে সরাসরি তাঁকেই সবটা বলতে পারবেন। একইসঙ্গে তাঁকে খুশি করতে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ শব্দটি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে কোনো আমলা ভুল করলে অবশ্যই তাঁর কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। প্রয়োজনে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে তাঁর বিরুদ্ধে।
  • Link to this news (বর্তমান)