সীমান্তে কাঁটাতার দিতে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করবে রাজ্য
বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড়ো পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে বলে সোমবার নবান্ন থেকে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জমি দেওয়া হবে বিএসএফের বর্ডার আউটপোস্ট তৈরির জন্যও।
পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে বিএসএফকে জমি না দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তুলে আসছিল বিজেপি। নির্বাচনের প্রচারে এসে এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে একাধিকবার আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার সরকারে এসে প্রথম দিনেই সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে জমি হস্তান্তরের সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য। জমি হস্তান্তরের মূল দায়িত্বে থাকেন জেলাশাসকরা। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি হস্তান্তর করতে শীঘ্রই জেলাশাসকদের সঙ্গে মুখ্যসচিব বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষার প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। যেভাবে জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে, তাতে সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় গতি আনতে হবে। আমরা আজই অনুমোদন দিলাম। ভূমিসংস্কার সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর শেষ করতে হবে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, বিএসএফ যতটা জমি চেয়েছে, ততটাই তাদের দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ভূমিসংস্কার দপ্তর কাজ এগিয়ে রেখেছে। তাঁর কথায়, ‘আগের সরকারের অনিচ্ছায়, বিশেষ ভোটারদের বাঁচানোর জন্য, অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য তারা ভূমিসংস্কার দপ্তরকে কাজ করতে দেয়নি। মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশও অমান্য করা হয়েছে, যেটা কোনো সরকার করতে পারে না।’ কতটা জমি হস্তান্তর হবে, সে বিষয়ে ‘আলটপকা’ কোনো মন্তব্য করতে চাননি শুভেন্দু। তবে তাঁর আশ্বাস, ‘বিএসএফ ফেন্সিং পুরো করে দেবে। অনুপ্রবেশের সমস্যাও কিছুদিনের মধ্যে মিটে যাবে।’
প্রশাসনিক মহল সূত্রে খবর, সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে কাঁটাতার দিতে এবং নিজেদের বর্ডার আউটপোস্ট তৈরি করতে প্রায় ১৫৭৭ একর জমি চাওয়া হয়েছিল বিএসএফের তরফে। যার মধ্যে আগের সরকার ১০৯৮ একর জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিলেও বাস্তবে হস্তান্তর হয়েছে মাত্র ৩৯৩ একর। বাকি রয়েছে প্রায় ১০৯৪ একর জমি হস্তান্তর। আবার ৯০ একর জমি হস্তান্তরের অনুমোদনই দেয়নি পূর্বতন সরকার। বনগাঁ সীমান্তে এখনও কিছু এলাকায় কাঁটাতার নেই।-ফাইল চিত্র