• অশান্তি বরদাস্ত নয়, পার্টি অফিস দখল নয়, বার্তা জেলা সভাপতির
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এবারের ভোট হয় শান্তিপূর্ণ আবহে। তবে ফল ঘোষণার পর বিক্ষিপ্তভাবে অশান্তি হচ্ছে আরামবাগ মহকুমাজুড়ে। বাড়ি ঘর ভাঙচুর, পার্টি অফিস দখল, মারধরের ঘটনা ঘটছে। সদ্য বিরোধী হওয়া দল তৃণমূল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে অশান্তির অভিযোগ তুলছে। এতদিন আরামবাগ মহকুমার গোঘাট, খানাকুল, পুরশুড়া ও আরামবাগের বিজেপি বিধায়করা দলের নির্দেশে নিজেদের উদ্যোগে অশান্তি না করার বার্তা দিচ্ছিলেন। এবার কড়া অবস্থান নিল আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে কোথাও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন। সুশান্তবাবু বলেন, ভোট পরবর্তী কোনো ধরনের রাজনৈতিক অশান্তি বরদাস্ত করবে না দল। অশান্তিতে বিজেপি কর্মীদের যোগ থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে দল। রাজ্য সভাপতি এব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, জোর করে অর্থ আদায়, দোকান পাট বন্ধ, অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি ঘটনা থেকে বিরত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তবে সুশান্তবাবুর অভিযোগ, গত ৪মে ভোটের ফল প্রকাশের পর রাতারাতি কিছু লোক গলায় গেরুয়া গামছা ঝুলিয়ে ও তিলক এঁকে বিজেপির কর্মীদের কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের উপর আমাদের নজর রয়েছে।  তাদের সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। 

    সুশান্তবাবু নিজের দলের কর্মীদেরও বেশকিছু বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের কর্মীদেরও সতর্ক হতে বলছি নিজেদের শুধরে নিতে হবে। যদিও আমাদের কর্মীরা এ ধরনের কার্যকলাপে কোথাও যুক্ত নন। তা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনায় যোগ সামনে এলে মণ্ডল সভাপতিদের অনুরোধ করব কড়া হাতে ব্যবস্থা নিন। তা না হলে দলের রাজ্য নেতৃত্ব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। জেলা সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেছেন, যারা দলের নিয়ম নীতি ভঙ্গ করছে, দল তার দায় নেবে না। তাই এই ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করার আগে প্রত্যেকেই সংযত হন। যে কোনো ধরনের প্ররোচনা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, অন্য কোনো দলের পার্টি অফিস কোনো ভাবে দখল করা যাবে না। কেউ যদি তালা দিয়ে দেয়, তা খোলার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু এই ধরনের ঘটনায় তৃণমূলের একাংশই এলাকায় অশান্তি করছে। যাতে বিজেপির প্রকৃত কর্মীদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করা যায়। দল যাতে কাজ করতে না পারে তারজন্যও চক্রান্ত করা হচ্ছে। তাই দলের নির্দেশে এখন অন্য কোনো দলের লোককে বিজেপিতে নেওয়া হবে না। সেই ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।  তৃণমূলের অবশ্য দাবি, বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে অশান্তি না করার বার্তা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)