হুগলির ‘লালগড়’ পাণ্ডুয়ায় পদ্মের জয়, ৫ বছরে বিদায় জোড়াফুলের, ১৫ বছরে সবচেয়ে কম ভোট সিপিএমের
বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নিজস্ব সমীকরণের কারণেই হুগলিতে পাণ্ডুয়া বিধানসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল ছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের বছরে এবং তার পরের নির্বাচনেও পাণ্ডুয়া ধরে রেখেছিল বামেরা। ২০২১ সালে তৃণমূল প্রথম সেখানে জেতে। জেতা আসন বামেদের হাতছাড়া হয়েছিল বিজেপি তাদের ভোটব্যাংকে থাবা বসানোয়। এবারের নির্বাচনে বামপন্থীরা তাদের জমি উদ্ধার করতে পারে কি না, সেই লড়াইটাই ছিল রাজনৈতিক মহলের কাছে আকর্ষণের। বাস্তবে নিজেদের ভোটব্যাংক আরও খুইয়ে বিজেপির হাতে পাণ্ডুয়া তুলে দিয়েছে বামেরা। অন্তত নির্বাচন পরবর্তী বিশ্লেষণে তেমনই ইঙ্গিত পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল।
বলা বাহুল্য, বাম নেতৃত্ব এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। ২০১১ ও ২০১৬ সালে পাণ্ডুয়ায় জিতেছিলেন সিপিএম নেতা আমজাদ হোসেন। এবারও তিনিই প্রার্থী ছিলেন। আমজাদ বলেন, তৃণমূল এবং বিজেপির মেরুকরণের খেলাতেই পাণ্ডুয়ার ভোট সমীকরণ গুলিয়ে গিয়েছে। আমরা ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করব। যদিও বামেদের অন্দরমহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই পাণ্ডুয়ায় ‘আগে রাম পরে বাম,’ তত্ত্বের প্রতি কর্মীদের বিশ্বাস বাড়ছিল। ২০২১ সালে হারের পর সেই নীতি আরও পুষ্ট হয়েছে। তৃণমূলের হারের পিছনেও আছে একাধিক ফ্যাক্টর। তারমধ্যে অন্যতম বিপুল গোষ্ঠীকোন্দল। কোন্দলের জেরেই জেলার বাইরে থেকে প্রার্থী আনতে হয়েছিল। তাতেও অবশ্য পাঁচ বছর আগে প্রথমবার জেতা আসন বাঁচাতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, মাত্র পাঁচ বছর আগে জেতা আসন কেন হারাতে হল, তা আমরা দলীয় স্তরে বিশ্লেষণ করছি। সেই বিশ্লেষণ শেষ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা পাণ্ডুয়া থেকে নির্বাচিত বিজেপি প্রার্থী তুষার মজুমদার বলেন, তৃণমূলের অপশাসনের প্রতিবাদে বিজেপিকেই ভরসা করেছেন মানুষ। তারই প্রতিফলন পড়েছে নির্বাচনে। কোনো বিভাজন বা সংযুক্তিকরণ এখানে কাজ করেনি।
রাজনৈতিক মহল বলছে, পাণ্ডুয়ায় এবার নির্বাচনি ফলাফল বুঝতে একটি অঙ্কই যথেষ্ট। ২০১৬ সালে রাজ্যে যখন দ্বিতীয়বার তৃণমূল ক্ষমতায় আসে, তখনও পাণ্ডুয়ায় জিতেছিল সিপিএম। সেবার তৃণমূল পেয়েছিল ৪৩.০২ শতাংশ ভোট, সিপিএম ৪৩.৬৯ শতাংশ আর বিজেপি পেয়েছিল ৮.১৬ শতাংশ ভোট। ২০২৬ সালে বিজেপি পেয়েছে ৪৩.৩৬ শতাংশ, তৃণমূল ৪১.১৩ শতাংশ আর সিপিএম পেয়েছে ১১.৭৯ শতাংশ ভোট। ৫ হাজার ২২৮ ভোটে তৃণমূলকে হারিয়েছে বিজেপি। মজার কথা, ২০২১ সালেও সিপিএমের কাছে ১৮.৫৫ শতাংশ ভোট ছিল। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে কার্যত ‘মূল্যহীন’ সিপিএম পেয়েছিল ১৩.৩৯ শতাংশ মানুষের সমর্থন। যা এবার ১১.৭৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। যা শতাংশের নিরিখে পাণ্ডুয়ার নির্বাচনি ইতিহাসে বামেদের জন্য সবচেয়ে কম ভোটপ্রাপ্তি।