• কাউন্সিলের মনোনীত প্রধানরা বরখাস্ত! উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা করবেন কে?
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের সমস্ত মনোনীত সরকারি পর্ষদ এবং সেগুলির চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর বা অন্যান্য কর্তাদের অবিলম্বে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর আওতায় মধ্যশিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, স্কুল এবং কলেজ সার্ভিস কমিশনের মতো সংস্থাগুলিও রয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ১৪ মে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হওয়ার কথা। এই সরকারি নির্দেশের পরে কে ফল ঘোষণা করবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

    সোমবার দুপুর আড়াইটে নাগাদও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের তরফে ফল প্রকাশ নিয়ে বার্তা আসে সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। তবে, সরকারি অর্ডারের পর গোটা বিষয়টি পালটে গিয়েছে। সভাপতি পার্থ কর্মকার বিকেলে বলেন, ‘আমাদের বদলির চাকরি। সরকার যেখানে পাঠাবে চলে যাব। তবে, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’ সভাপতি এবং সচিব না-থাকলে কি সংসদের উপসচিব (পরীক্ষা) ফল ঘোষণা করতে পারেন? এর উত্তরে উপসচিব উৎপলকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এমনিতে সংসদের নিয়মে তা বলা নেই। কোনো নির্দেশের ভিত্তিতে তা করা যেতে পারে।’ 

    প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই সংসদের চারটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে ফল সংক্রান্ত নথি চলে গিয়েছে। মার্কশিটে উপসচিবের (পরীক্ষা) স্বাক্ষর থাকে। তবে, পাশ সার্টিফিকেটে সই থাকে সভাপতি এবং সচিবের। শেষ মুহূর্তে সেগুলি পালটানোর উপায় নেই। প্রসঙ্গত, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরে আগের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের পরিবর্তে পার্থবাবুকে সভাপতি করেছিল শিক্ষাদপ্তর।

    এদিকে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র দিয়েছেন শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমারের কাছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় এবং সচিব সুব্রত ঘোষও পদত্যাগ করেছেন বলে সূত্রের খবর। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি তথা রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম পাল বলেন, ‘আমার কাছে শিক্ষাদপ্তরের তরফে কোনো বার্তা আসেনি। তাই পদত্যাগ করিনি। তাছাড়া এগুলি স্ট্যাটিউটরি বডি (বিধিবদ্ধ সংস্থা)। সেগুলি রাজ্য সরকারের এই অর্ডারের আওতায় আসবে কি না, তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে।’ 

    অন্যদিকে, কলকাতা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ (ডিপিএসসি) চেয়ারম্যান কার্তিক মান্না জানান, তিনি ৮ মে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন দপ্তরে। বিজেপি শিক্ষক সেলের সহ-আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ডিপিএসসি অফিসে গিয়েও মনোনীত সংস্থার প্রধানদের পদত্যাগের অনুরোধ করেছিলাম। সরকার সেই দাবিতে সিলমোহর দেওয়ায় আমরা খুশি। সংসদের যদি উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশে সমস্যা হয়, সেটা সরকারকে জানাক। নিশ্চয় কোনো সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।’ এদিন রাতের দিকে রাজ্য সরকারের নির্দেশ মতোই শিক্ষা দপ্তরের তরফে বরখাস্তের অর্ডার জারি করা হয়।
  • Link to this news (বর্তমান)