• পদ ফাঁকা, কীভাবে পরিষেবা? হিমশিম হাওড়া পুরসভা
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৮ সালে। তারপর থেকে হাওড়া পুরসভায় নেই কোনো পুরবোর্ড। কোনো ওয়ার্ডে নেই কোনো কাউন্সিলার। ফলে সাধারণ কোনো শংসাপত্রের প্রয়োজন হোক বা পানীয় জল, জঞ্জাল অপসারণ, নিকাশির মতো দৈনন্দিন পুর-পরিষেবার সমস্যা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে হাওড়াবাসী টানা ভুগে চলেছে। কখনও প্রশাসক বসিয়ে, কখনও পুর-কমিশনারের মাধ্যমে চালু রাখা হয়েছে হাওড়া পুরসভা। রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে হাওড়ায় দ্রুত পুরভোটের দাবিও জোরদার হয়েছে। শাসক দল বিজেপি থেকে শুরু করে বাম-কংগ্রেস—সব পক্ষই এই দাবিতে সোচ্চার। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি, তাতে ভোট না হওয়া পর্যন্ত পুরসভার নাগরিক পরিষেবাগুলি চালু রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পুরসভার অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে, জনপ্রতিনিধি বা কাউন্সিলার না থাকলে আমলা, ইঞ্জিনিয়াররা কোনোরকমে পরিষেবা চালু রাখেন। কিন্তু পুরসভার কর্মী-আধিকারিকেরই যদি অভাব থাকে, কাজটা হবে কীভাবে? হাওড়া পুরসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। প্রায় সব বিভাগেই ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকের অভাব প্রকট। সামনেই বর্ষার মরশুম। কীভাবে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে পুরকর্তাদের। ফলে দ্রুত পুরভোটের পাশাপাশি শূন্যপদ দ্রুত পূরণের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে।

    বর্তমানে হাওড়া পুরসভা পরিচালনা করছেন পুর-কমিশনার। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বদলি হয়ে গিয়েছেন পুরসভার জয়েন্ট কমিশনার। সেই পদ এখনও শূন্য পড়ে রয়েছে। ডেপুটি কমিশনারের চেয়ারেও আপাতত কেউ নেই। ফলে বর্ষা মরশুমের পরিস্থিতি সামাল দিতে ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মীদের যথাযথ নির্দেশ কে দেবেন, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, এই অবস্থায় পুরসভা কোনো কাজ করতে গেলেই দক্ষ আধিকারিকের অভাব প্রকট হয়ে উঠছে। শুধু শীর্ষ স্তরে নয়, নীচুতলাতেও একই ছবি। বিল্ডিং, জঞ্জাল অপসারণ এবং পানীয় জল সরবরাহ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলি চালাচ্ছেন হাতেগোনা কয়েকজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। 

    পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, ৫০টি ওয়ার্ডে নাগরিক পরিষেবা অব্যাহত রাখার জন্য কর্মী-আধিকারিকের সংখ্যা অত্যন্ত কম। বরো অফিসগুলির অবস্থাও উদ্বেগজনক। প্রতিটি বরো অফিসে মাত্র একজন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের উপর সাতটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব বর্তেছে। যেখানে অন্তত এই পদমর্যাদার দু’-তিনজন আধিকারিক থাকা প্রয়োজন বলে দাবি পুরকর্মীদের। এক আধিকারিকের কথায়, ‘নিকাশি সংস্কার, ডিসিল্টিং, স্ট্রিটলাইট সার্ভের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলাতে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে। দৈনন্দিন আবর্জনা সাফাইয়ের কাজ তদারকি করার মতো লোকও নেই। ভারী বৃষ্টিতে গত কয়েক বছরের মতো এবারও শহরের যত্রতত্র জল জমলে সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’ এই পরিস্থিতিতে আধিকারিক থেকে কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সবাই মনে করছেন, পুরভোট তো অবিলম্বে অবশ্যই দরকার। ততটাই প্রয়োজন পুরসভার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে আধিকারিক ও কর্মী নিয়োগ।
  • Link to this news (বর্তমান)