• নাগরিক পরিষেবায় আপস নয়, হাতে হাত মিলিয়ে কাজ, তৃণমূল পুরবোর্ডগুলিকে বার্তা জয়ী বিজেপি প্রার্থীদের
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার বার্তা দিলেন বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা। সোমবার দুপুরে দমদম, রাজারহাট-গোপালপুর ও বিধাননগরের তিন জয়ী প্রার্থী দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান সহ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে নাগরিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করার দাবি জানান। চেয়ারম্যান সহ পুরসভার কাউন্সিলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন তাঁরা। এছাড়া, বরানগরের জয়ী প্রার্থী তৃণমূল কাউন্সিলারদের সঙ্গে কথা বলে রাস্তায় জমা জঞ্জাল সরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। 

    রাজ্য সরকারে পালাবদল হলেও উত্তর শহরতলির সবক’টি পুরসভা তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূলের বহু কাউন্সিলার বাড়িছাড়া। অনেক ওয়ার্ড অফিস দখল হয়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব আসরে নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। এই অবস্থায় অনেক কাউন্সিলার বাড়ি ফিরলেও তাঁদের সিংহভাগই পুরসভায় দিকে পা বাড়াচ্ছেন না। বসছেন না ওয়ার্ড অফিসেও। এমনকি, একাধিক পুরসভায় স্বয়ং চেয়ারম্যান গরহাজির থাকছেন টানা কয়েকদিন। ফলে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়াদ আর কতদিন, সময়ের আগেই পুরভোট হবে কি না, বিজেপি কি আদৌ পুরসভা চালাতে দেবে তৃণমূলকে—এরকম নানা প্রশ্নে জল্পনা বাড়ছে। এই জল্পনায় জল ঢালতেই দমদমের জয়ী প্রার্থী অরিজিৎ বক্সি, রাজারহাট-গোপালপুরের তরুণজ্যোতি তেওয়ারি এবং বিধাননগরের শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এদিন দক্ষিণ দমদম পুরসভায় আসেন। চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরি সহ পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। দু’পক্ষই সৌহার্দ্য বিনিময় করে। পুরসভা সূত্রে খবর, তিন জয়ী প্রার্থী পুর পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুললে চেয়ারম্যান বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলেন। তখনই তাঁরা চেয়ারম্যানকে যথাযথ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। বলেন, ‘কাউন্সিলারদের আগের মতোই প্রত্যেকদিন ওয়ার্ড অফিসে বসতে হবে। পুরসভা সুচারুভাবে চালু রাখতে হবে। কোনোভাবে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত করা যাবে না।’ তাঁরা আরও জানান, পুরসভা সহ সমস্ত সরকারি জায়গা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সরিয়ে ফেলতে হবে। আইন মেনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগাতে হবে। চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরি বলেন, ‘জয়ী প্রার্থীরা পুরসভায় এসে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগের মতো কাউন্সিলারদের ওয়ার্ড অফিসে বসা ও পুরসভা চালানোর কথা বলেছেন।’ বিধাননগরের জয়ী প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘জঞ্জাল সাফাই, আলো, নিকাশি সহ নানা নাগরিক পরিষেবার গতি অব্যাহত রাখার জন্যই কথা বলতে এসেছিলাম। ওঁরা সুরক্ষা বা নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। তবে আমরা বলেছি, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সবাই সুরক্ষিত রয়েছেন।’ 

    এদিকে, বরানগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোডে জঞ্জাল পড়ে থাকতে দেখে কাউন্সিলারদের ফোন করে সমস্যার কথা বলেন এই কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ। পুরসভার তরফে দ্রুত তা পরিষ্কার করা হয়। এরপর ওই এলাকার জমা আবর্জনা ও পরবর্তী সাফাইয়ের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে সজলবাবু লেখেন, ‘উন্নয়নের স্বার্থে আমরা মিলেমিশে কাজ করব। কিন্তু মিলেমিশে বিজেপি করব না।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)