কড়েয়ায় তোলা না পেয়ে চপারের কোপ ব্যবসায়ীকে, ধৃত তিন অভিযুক্ত
বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তোলা না পেয়ে কড়েয়ায় এক ব্যবসায়ীকে চপার দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। আব্দুল তারিক নামে ওই ব্যবসায়ী প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় তাঁকে তাড়া করা হয়। এরপর তাঁকে রাস্তায় ফেলে চপার দিয়ে শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন স্থানীয় লোকজন। রবিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনায় কড়েয়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কড়েয়া থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কড়েয়ায় আব্দুলের দোকানে রবিবার সন্ধ্যায় জনা তিনেক যুবক হাজির হয়। তাদের বাড়ি কড়েয়া এলাকাতেই। আব্দুলের অভিযোগ, তারা টাকা দাবি করে। তা দিতে রাজি না হওয়ায় ঝামেলা বেধে যায়। ওই যুবকরা হুমকি দিতে থাকে, টাকা না দিলে ফল ভালো হবে না! আব্দুলও জানিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই তিনি টাকা দেবেন না। একথা শোনার পরই সেই তিন যুবক তাঁর উপর নিয়ে চড়াও হয়। তিনি ভয় পেয়ে দোকান ছেড়ে বেরিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। তাঁকে তাড়া করে ওই তিন যুবক। বয়সের কারণেই আব্দুল জোরে দৌড়াতে পারছিলেন না। একসময় তাঁকে ধরে ফেল অভিযুক্তরা। লিখিত অভিযোগে ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ওই অবস্থায় দুষ্কৃতীরা চপার বার করে তাঁর মাথা, হাত সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। তিনি প্রাণভয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, তখন দুষ্কৃতীরা তাঁদেরও চপার দিয়ে আঘাত করে। কয়েকজনের হাতে আঘাত লাগে। এলাকায় ভিড় জমে যায়। খবর যায় কড়েয়া থানায়। আহত আব্দুলকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তাঁর মাথায় ও হাতে একাধিক সেলাই পড়েছে। এখনও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করে। অভিযুক্ত আকবর হোসেন, আকসর হোসেন ও ফিরোজ হোসেনকে গভীর রাতে কড়েয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কড়েয়া এলাকায় তোলাবাজদের দৌরাত্ম্য নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুষ্কৃতীদের দাপট ক্রমশ বাড়ছে। কেউ তোলা দিতে অস্বীকার করলে মারধর বা চপার দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই তোলাবাজদের নির্দিষ্ট ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ থাকায় স্থানীয় কড়েয়া থানা তাদের ধরপাকড়ে ততটা উৎসাহ দেখায় না বলে অভিযোগ। এই তিন ধৃতের বিরুদ্ধেও আগে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে খবর।