• আতঙ্ক কেটেছে, ঘরছাড়ারা ভোট দিতে দলে দলে ফিরছেন ফলতায়
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বজবজ: ফলতায় গঙ্গার ধারেই রয়েছে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর বাগানবাড়ি ও গবেষণাগার। এখানে রয়েছে দেশ-বিদেশের নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ গাছ। একটা সময় জগদীশচন্দ্র বসু গবেষণা করেছেন এখানে। এই বিজ্ঞানীর জন্যই বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পেয়েছিল ফলতা। তখন ভয়ডরহীন এক শান্তির পরিবেশ ছিল। কিন্তু এক যুগেরও বেশি ধরে সময় ধরে তৃণমূলের গুটিকয় নেতার ‘দাদাগিরি’ এলাকাকে অশান্ত করে তুলেছিল। এমনকি, মানুষের বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে ফলতাকে কার্যত আতঙ্কের দুর্গে পরিণত করেছিল। ২১ মে ফলতায় বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচন হবে। তার আগে এলাকায় শান্তি ফেরাতে এখন থেকেই জোট বাঁধছেন ভোটাররা।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, তৃণমূলের ভয়ে, আরও স্পষ্ট  করে বললে, ঘাসফুল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের অত্যাচারে ফলতা ছেড়ে বহু মানুষ কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় ঘর ভাড়া নিয়ে রয়েছেন। ঘরছাড়া এই মানুষজন কেউ মাছ বিক্রি করেন, কেউ সবজি বিক্রি বা হকারি করে সংসার চালান। তাঁরাই এবার সাহসে ভর করে ভোট দিতে ফলতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঠাকুরপুকুর, কদমতলা, চৌরাস্তা, সরশুনা, কবরডাঙায় এমন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন ফলতার অজস্র মানুষ। এবার রাজ্যে পালাবদল হতেই এইসব মানুষ চাইছেন, প্রয়োজনে ব্যবসা বন্ধ রেখে ফলতায় গিয়ে ভোট দিতে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঘরছাড়া বলেন, এবার আমাদের এককাট্টা হতে হবে। যাতে ২১ মে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে স্বাধীনভাবে মতামত জানাতে পারি। তৃণমূলের বাহুবলীদের দাদাগিরি ও তোলাবাজদের হাত থেকে ফলতাকে মুক্ত করতে হবে। তাঁদের কথায়, এবার আমাদের স্লোগান, ‘২১ তারিখ ফলতা চলো। ভয় তাড়াতে নিজের ভোট নিজে দাও।’ বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী দেবাংশু পান্ডা বলেন, ভোটারদের কাছে আমরাও এই আবেদন জানাচ্ছি। সকলে সাহস করে ভোট দিন। তাহলেই ফলতা তার আগের গরিমা ফিরে পাবে। একই কথা বলেছেন সিপিএম প্রার্থী শম্ভু কুর্মীও। তিনিও ফলতার মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন। 

    দেবাংশুবাবু বলেন, ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোটে দাদাগিরি চলেছে। জাহাঙ্গির ও তার দলবল ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুনের হুমকি দিয়ে বলে এসেছে, তাঁরা যেন ভোট দিতে না যান। ফলে ফলতার অধিকাংশ ভোটারই ভোট দিতে পারেননি। অনেক জায়গায় ইভিএমেও কারসাজি করা হয়েছিল। ইভিএমে বিরোধী প্রার্থীদের নাম ঢাকা দেওয়া, আতর ঢেলে দেওয়া, যে কোনো বোতাম টিপলেই জোড়াফুলে ভোট পড়া ইত্যাদি একাধিক অভিযোগ করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আগের ভোট বাতিল করে ফলতায় ফের ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
  • Link to this news (বর্তমান)