জ্যোতিপ্রিয়, রথীনের পর এবার অশোক কীর্তনিয়া, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ফের উত্তর ২৪ পরগনা থেকেই
বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যে সরকার বদলেছে। পালটেছে রাজনৈতিক সমীকরণও। কিন্তু খাদ্যদপ্তরের সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার ‘যোগ’ আর ভাঙল না। গত কয়েক বছরে এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব ঘুরেফিরে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার বিধায়কদের হাতেই। তৃণমূল আমলে খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন হাবড়ার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পরে এই দায়িত্ব যায় মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষের হাতে। আর নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় খাদ্যদপ্তরের ভার তুলে দেওয়া হল বনগাঁ উত্তরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার কাঁধে। ফলে, রাজনৈতিক রং বদলালেও খাদ্যদপ্তরের ‘ঠিকানা’ যে কার্যত উত্তর ২৪ পরগনাতেই রয়ে গেল, তা নিয়েই এখন জেলায় জোর চর্চা। তবে মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, মানুষের খাবার নিয়ে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। পুরানো ফাইল খোলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার ব্রিগেডে নতুন সরকারের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন অশোক কীর্তনীয়া। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁর হাতে তুলে দেন খাদ্যদপ্তরের দায়িত্ব। তার পর থেকেই বনগাঁ থেকে বারাসত, হাবড়া থেকে মধ্যমগ্রাম— জেলার রাজনৈতিক মহলে একটাই আলোচনা, সব সরকারের খাদ্যদপ্তরের ‘ভরসা’ হল এই জেলা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব। সীমান্ত লাগোয়া এই জেলা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। একদিকে মতুয়া ভোটব্যাংক, অন্যদিকে বিপুল জনসংখ্যা ও রেশন ব্যবস্থার বিস্তৃত পরিকাঠামো— সব মিলিয়ে খাদ্যদপ্তরের সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার সম্পর্ক অনেকটাই বাস্তব নির্ভর। ফলে এই জেলার কোনো নেতাকে খাদ্যদপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। এনিয়ে বনগাঁর ব্যবসায়ী তাপস দে বলেন, খাদ্যদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বারবার উত্তর ২৪ পরগনার বিধায়কদের হাতে যাচ্ছে। এখানকার নেতারা সাধারণ মানুষের সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন। তাই সরকারও হয়তো মনে করছে, এই জেলার কেউ দায়িত্বে থাকলে মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও ভালো হবে। বারাসতের শিক্ষক দিবাকর চক্রবর্তীর কথায়, খাদ্যদপ্তর মানেই রেশন। সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, সরকারি পরিষেবা। এই বিশাল ও জনবহুল জেলার নেতারা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত। তাই বারবার এই জেলার বিধায়কদের উপর ভরসা করা অস্বাভাবিক নয়।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে প্রথমবার বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে বিধায়ক হন অশোক কীর্তনিয়া। এবারও ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি। তারপর মন্ত্রিসভায় জায়গা এবং সরাসরি খাদ্যদপ্তরের দায়িত্ব। এই দপ্তর ঘিরে বিতর্ক কম নেই। তৃণমূল আমলে খাদ্যদপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় তদন্তে নামে ইডি। গ্রেপ্তার হন তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ফলে, নতুন সরকারের নতুন খাদ্যমন্ত্রীর সামনে এখন সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রেখে দপ্তর পরিচালনা করা—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এ বিষয়ে মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, দল আমাকে ভরসা করে এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী করেছে। সেই মর্যাদা রাখব। খাবার নিয়ে কোনো দুর্নীতি বরদাস্ত করব না। আমার আগে এই দপ্তরে যাঁরা মন্ত্রী ছিলেন, তাঁদের সব নথি বের করব। তদন্ত হবে। এরপরেই মন্ত্রীর সংযোজন, মোদিজির দেখানো পথেই মানুষের পাশে থাকব, আমার গ্যারান্টি।