• ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, কোনো প্রকল্পই বন্ধ নয়, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
    বর্তমান | ১২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জুন মাসেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়ে যাচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। সোমবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হতেই এই সুখবর পৌঁছে গেল রাজ্যের ঘরে ঘরে। নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সেরে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে সরকার এবার হবে ‘ফর দ্য পিপল, অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল’। আর সেই লক্ষ্যেই এদিন ‘আয়ুষ্মান ভারত’ সহ যাবতীয় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল বাংলার প্রত্যেক নাগরিককে দেওয়ার অঙ্গীকার করলেন তিনি। পাশাপাশি তুলে ধরলেন মন্ত্রিসভার ছ’টি সিদ্ধান্তের কথা। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘জনকল্যাণমূলক কোনো চালু প্রকল্প বন্ধ হবে না।’ 

    বিজেপি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। তা নিয়ে কৌতূহলও ছিল রাজ্যবাসীর। এই বৈঠকে একদিকে যেমন জনগণনার সার্কুলার অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তেমনই স্থির হয়েছে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের জন্য নির্ধারিত জমি দেওয়া হবে। যদিও এই সবই ছাপিয়ে গিয়েছে বিকেলে বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পরবর্তী ঘোষণা। তখনই রাজ্যের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১ জুন শুরু হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। নির্বাচনি সংকল্পপত্রে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলা মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এবার সরকারে আসা মাত্র সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে তৎপরতা শুরু করে দিল সরকার। এর পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া হল, জুন মাসের এক তারিখ থেকেই রাজ্যের মহিলাদের সরকারি বাসযাত্রা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। 

    ২০২১-এর নির্বাচনে জিতে প্রতিশ্রুতি মাফিক লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছিল পূর্বতন সরকার। সর্বশেষ বৃদ্ধির পর এর মাধ্যমে প্রতি মাসে দেড় হাজার থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত পেতেন বাংলার নারীরা। তারই বিকল্প হতে চলেছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। একইভাবে যুবসাথীর বিকল্প বেকার ভাতাও আনার কথা রয়েছে বিজেপি সরকারের। তাই প্রশ্ন উঠছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী বা যুবসাথীর মতো যেসব প্রকল্পের বিকল্প আসছে, তার উপভোক্তা কীভাবে চিহ্নিত হবে? প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা মনে করছেন, আগামী দিনে রাজ্যের তরফে যাবতীয় শর্তই স্পষ্ট করে দেওয়া হবে।

    এদিন অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আবেদন জমা পড়লেও তার থেকে বাংলার মানুষকে অযাচিতভাবে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ‘বিশ্বকর্মা যোজনায় আমাদের যারা বিশ্বকর্মা আছেন, হাতের কাজ করেন, আমাদের কামার, কুমার থেকে কুম্ভকার, স্বর্ণকার থেকে মালাকার, তাঁতি থেকে নাপিত—এমন ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন করে রেখেছিলেন। আগের সরকার তাঁদের আবেদন জেলাশাসকদের দিয়ে কেন্দ্রের এমএসএমই দপ্তরে পাঠাতে দেননি। আমরা দ্রুত সেই ব্যবস্থা করছি।’ একইভাবে গ্রাহক বিতরণ কেন্দ্রে উজ্জ্বলা প্রকল্পের হাজার হাজার দরখাস্ত পড়ে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে তা কেন্দ্রকে পাঠানো হয়নি বলেও তাঁর অভিযোগ। 
  • Link to this news (বর্তমান)